জিপিএ-৫ পাওয়া জান্নাতি মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার পথে
নাম জান্নাতি আকতার। স্বভাবই তিনি একজন মেয়ে। কিন্তু হঠাৎই তিনি ছেলেতে রূপান্তরিত হচ্ছেন। জান্নাতি থেকে এখন তার নাম রাখা হয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস। বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
শনিবার (০৫ আগস্ট) সকাল থেকেই জান্নাতিকে একনজর দেখতে তার বাড়ি গাবতলী পৌরসভার গোরদহ দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভিড় জমান দূর-দূরান্তের মানুষ।
ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়া জান্নাতি ওই এলাকার জহুরুল ইসলাম ও শিল্পী বেগম দম্পত্তির সন্তান। জান্নাতি আকতার এবার গাবতলী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে সে জিপিএ-৫ অর্জন করে।
.png)
জান্নাতির শারীরিক পরিবর্তন হওয়ায় তাকে গত বুধবার গাবতলী উপজেলা কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীনা পারভীন জান্নাতির শারীরিক পরীক্ষা করেন।
এ বিষয়ে ডা. শারমীনা পারভীন জানান, হরমোনের কারণে জান্নাতির গলার স্বর পরিবর্তন ও দাড়ি, গোঁফ গজে উঠছে। তবে জান্নাতির লিঙ্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরুষ হওয়ার জন্য জান্নাতি বর্তমানে প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। অপারেশনের মাধ্যমে সে পরিপূর্ণ পুরুষ হতে পারে। কিন্তু সেটি অনেক সময়ের ব্যাপার।
জান্নাতি জানান, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আমার শারীরিক পরিবর্তন হওয়ায় আমি খুবই খুশি। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আগে আমার নাম ছিল জান্নাতি এখন আমার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। আমার একটা ছোট ভাই আছে। এখন আমরা দুই ভাই হলাম। আমাদের পরিবার অসচ্ছল। আমার ইচ্ছা আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো। আর সবার কাছে একটাই অনুরোধ আমি যেখানেই যাই না কেন আমাকে যেন হেয় পতিপন্ন না করা হয়। ’
জান্নাতির বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, ছোট বেলা থেকেই জান্নাতির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আমার মেয়ে জান্নাতি এখন জান্নাতুল ফেরদৌস। আমি চাই আমার ছেলে ভালো পড়াশুনা করে অনেক বড় হোক এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।