নিহত মো. মঈন উদ্দিন উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের হরিণকাটা গ্রামের ফকির বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে। চট্টগ্রামের ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় তিনি নিজের একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করেন সেনবাগ থানার এসআই মো. ফারুক। এরপর স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী রজ্জবের নেছা। নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইনের আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
.png)
এর আগে, রোববার রাত ৩টার দিকে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের হরিণকাটা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সোমবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সেনবাগ থানার ওসি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃত আসামির বরাতে তিনি জানান, নিহত মঈন উদ্দিন তার ব্যবসার কাজে প্রায় চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। এ সুযোগে গত প্রায় তিন বছর আগে তার স্ত্রী রজ্জবের নেছা বাড়ির পাশের মো. মাসুদ নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে তারা পরস্পর অসংখ্যবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। বছর খানেক আগে রজ্জবের নেছাকে তার স্বামী তালাক দেন। ফলে রজ্জবের নেছা বাবার বাড়ি চলে যান। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান থাকায় তাদের দিকে তাকিয়ে রজ্জবের নেছাকে পুনরায় সামাজিকভাবে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। নিয়ে আসার পরও তার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেনি।
ওসি আরো জানান, এরপরও বিভিন্ন সুযোগে রজ্জবের নেছা পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক চালাতে থাকেন। স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে পরকীয়া প্রেমিক মাসুদের সঙ্গে মঈন উদ্দিনের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ফলে পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ একাধিকবার রজ্জবের নেছার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন। মঈন উদ্দিন বাড়িতে এলে বিষয়টি সহ্য করতে পারতো না পরকীয়া প্রেমিক। এজন্য মঈনকে মেরে ফেলার জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেন। তিন থেকে চারদিন আগে এ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকসহ পরিকল্পনা করেন রজ্জবের নেছা।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, মঈন গ্রামের বাড়িতে এলে নিয়মিত গরুর দুধ পান করতেন। ঘটনার আগের দিন পরকীয়া প্রেমিক রজ্জবের নেছাকে ১৪ থেকে ১৫টি ঘুমের ওষুধ দেন। রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে রজ্জবের নেছা তার স্বামীকে সবগুলো ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। এতে মঈন অচেতন অবস্থায় ঘুমাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ ও রজ্জবের নেছা তাকে ঘর থেকে বের করে বাড়ির উঠানে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে বাড়ির উঠানে স্বামীকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে ঘরে ঢুকে উল্টো নাটক সাজান স্ত্রী।
জানা যায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রাহেলা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে সেনবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। একইসঙ্গে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে।