ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নওগাঁয় সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৮, ১২ আগস্ট ২০২৩
নওগাঁয় সবজি উৎপাদনে বিপ্লব
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা। এ উপজেলায় বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি ও শস্য উৎপাদন হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় দ্রুত বাজারজাত করে ভালো দাম পেয়ে লাভবান চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে- উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমান ১৬ হাজার ২৫৮ হেক্টর। এরমধ্যে ধানের জমির পরিমাণ ১২ হাজার ২৩ হেক্টর এবং শাক সবজি জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৩৫০ হোক্টর। শাক সবজির মধ্যে পটল ৩৭৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৮৫ হেক্টর, লাউ ৯০ হেক্টর, শষা ১৪০ হেক্টর, খিরা ১৫ হেক্টর, ঝিঙা ১৫ হেক্টর, বেগুন ৪৬০ হেক্টর, টমেটো ৫০ হেক্টর, করলা ৯০ হেক্টর, বরবটি ৪০ হেক্টর, ফুলকপি ১১০ হেক্টর, বাঁধাকপি ১০০ হেক্টর, মুলা ১০০ হেক্টর, শিম ১২০ হেক্টর, গাজর ২০ হেক্টর, ঢেঁড়স ৩৫ হেক্টর, চিচিঙ্গা ১৫ হেক্টর, চাল কুমড়া ১০ হেক্টর, কাকরোল ১০ হেক্টর।

এছাড়া লাল শাক ৬০ হেক্টর, পুঁইশাক ৬০ হেক্টর, পালং শাক ৪৫ হেক্টর, কলমি ১৫ হেক্টর, সবুজ শাক ৫ হেক্টর, ডাটা ৩০ হেক্টর, মুখী কচু ২৫ হেক্টর, ওল কচু ২০ হেক্টর, সাজনা ১০ হেক্টর এবং পানি কচু ৫ হেক্টর। যা থেকে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন শাক সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়াও বছরে ধান উৎপাদন হয় ১ লাখ ৩ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন। সরিষা ১ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন, গম ৩ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন, ভুট্টা ২ হাজার মেট্রিক টন। যার মূল্য প্রায় ৩৩৭ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

Advertisement

চকগোপাল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে বছরে পর্যায়ক্রমে আলু, পটল, মিষ্টি কুমড়া ও কাঁচা মরিচের আবাদ করাহয়। যা থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে এ বছর ৫ কাঠা জমিতে মরিচ চাষ এবং সাথী ফসল হিসেবে লাগিয়েছি হলুদ। এরমধ্যে মরিচ থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। আরো ৮ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এরপর হলুদ থেকে আয় করবেন খরচ বাদে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

নওগাঁয় সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

একই গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মাটি বেলে দোঁআশ। মাটিতে পানি কম থাকায় শাক সবজির আবাদ বেশি হয়। এসব সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সবজির দাম ভালো পাওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ে।

উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের চাষি সুকুমল চন্দ্র বলেন, চার বিঘা জমিতে ধান ও দেড় বিঘাতে শাক সবজির আবাদ করা হয়। পরিবারের চাহিদা মিটানোর পর প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ টাকার উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করা হয়।

চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে সবজি তুলে সহজেই স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করতে পারি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে অনেক সময় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। যদি সবজি সংক্ষরণের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আমরা লাভবান হতে পারতাম।

লাউ ক্ষেত

বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফরহান বলেন, এ উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৬ হাজার ২৫৮ হেক্টর। এরমধ্যে শাক সবজি চাষাবাদ হয় ৪ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে। যা থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৯০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন শাক সবজি উৎপাদন হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার ওপর। এ উপজেলার শাক সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। যা থেকে কৃষকরা লাভবান হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগাম সবজি উৎপাদনের কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় ভাবে সবজি প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেয়ে লাভবান হতে পারে সেজন্য হিমাগার স্থাপনের কথা জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!