ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মেহেরপুরে নারগিছ হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসি

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ১৩ আগস্ট ২০২৩
মেহেরপুরে নারগিছ হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসি
ফাইল ফটো

মেহেরপুরে ক্লিনিকের সেবিকা নারগিছ হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আরো কয়েকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাধিক সাজা দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রিপতি কুমার বিশ্বাস এ আদেশ দেন। তবে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ততরা হলেন- গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ফোরকান আলীর ছেলে বাশারুল ইসলাম ও জামির হোসেনের ছেলে ফজর আলী। মামলার অপর আসামি ইয়াকুব হোসেন মৃত্যুবরণ করায় তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঐ গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের স্ত্রী নারগিছ খাতুন বামন্দি মাহী ক্লিনিকের সেবিকা হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বামন্দির আল ফালাহ ক্লিনিকে যোগদান করেন।

ঐদিন তিনি বাড়িতে ফিরতে দেরি করায় তার মেয়ে তসলিমা খাতুনকে জানান, বামন্দির করবী ক্লিনিকের সামনে আছেন বাড়ি আসতে দেরি হবে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ থাকায় তার মেয়ে তসলিমা খাতুন গাংনী থানায় একটি জিডি করেন।

পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মেয়ে তসলিমা খাতুন একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিশ্বজিৎ কুমার তদন্তকালে সাহেবনগর গ্রামের বাশারুল ও ফজর আলীকে আটক করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি বাশারুলের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নারগিছের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে বাশারুল ইসলাম, ফজর আলী ও ইয়াকুব হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় আসামি বাশারুল ইসলাম ও ফরজ আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে দণ্ডবিধির ৩৬৪ ধারায় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং সেইসঙ্গে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী শহিদুল হক এবং আসামিপক্ষে কামরুল হাসান ও আতাউর রহমান আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: মেহেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!