মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় প্রদান করেন। দুই মামলার রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত বিশেষ কৌঁসুলি ছিলেন মো. মকবুল হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শিশু ধর্ষণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জেলার ধামইরহাট উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম (৫০) এবং শিশু অপহরণে সাজাপ্রাপ্ত নওগাঁ সদর উপজেলার চকচাঁপাই গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে সুমন হোসেন (২৫)।
.png)
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৫ জুন ঈদের দিন দুপুর ২টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের আট বছরের শিশুকে রুটি ও সেমাই খাওয়ানোর কথা বলে একই গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা একই দিন ধামইরহাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০২২ সালে ৫ জুলাই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৪ জুন ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শ্রবণ করা হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য ধার্য হলে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার জনাকীর্ণ আদালতে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আসামি পূর্ব থেকেই জেলহাজতে থাকায় তাকে সাজা পরোয়ানা পড়ে শুনানো হয়। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে প্রদানের নির্দেশ দেন বিচারক।
আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. মামুনুর রশিদ মামলা পরিচালনা করেন।
অপরদিকে, ২০২২ সালের ১৩ আগস্ট নওগাঁ সদর উপজেলার চকচাঁপাই গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে সুমন হোসেন জোর করে মাদরাসাছাত্রীকে সিএনজিযোগে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২০ আগস্ট নাবালিকার বড় ভাই থানায় মামলা করলে থানা কর্তৃপক্ষ ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার ভাইয়ের জিম্মায় দিয়ে দেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতে ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জনাকীর্ণ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার আসামি সুমন হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পূর্ব থেকেই আসামি জেলহাজতে থাকায় সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আবু জাইদ মো. রফিকুল আলম মামলা পরিচালনা করেন।