গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার টেপিরবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোখলেসুর রহমান, একই গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়া ও মাসুদ রানার ছেলে রাজীব মোড়ল। এরমধ্যে মোখলেসুর ও খোকন মিয়াকে গত মঙ্গলবার ভোরে ও বুধবার রাতে টেপিরবাড়ি এলাকা থেকে রাজীব মোড়লকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তারা। পরে শারীরিক সম্পর্কের লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি পর ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। পরে হাত-পা ও কোমরে ইট বেঁধে লাশ পানিতে ফেলে দেন তারা।
.png)
তিনি আরো জানান, গত বছরের ২৫ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমন মিয়ার ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা ও কোমরে তিনটি ইট বাঁধা আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানা পুলিশ দুই মাস মামলাটি তদন্ত করে কোনো তথ্য উদঘাটন করতে না পেরে গাজীপুর পিবিআই’র ওপর মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর আসামিরা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআই’র উপ-পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গত বছর ঘটনার ৩-৪দিন আগে তারা তিন বন্ধু মিলে চায়ের দোকানে বসে ইয়াবা সেবনের পাশপাশি এক নারীকে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাত ১০টার দিকে টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমনের বাড়ির পাশে নির্জন জায়গাতে ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তারা। পরে লেনদেন নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুমনের মালিকানাধীন একটি ডোবায় হাত-পা ও কোমরে ইট বেঁধে লাশ ফেলে দেন।
তিনি আরো বলেন, লাশটি সম্পূর্ণ পচে যাওয়ায় আঙ্গুলের ছাপ নেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।