ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কী আছে এই মাটিতে, আগুনে জ্বলে পানিতেও ভাসে

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩
কী আছে এই মাটিতে, আগুনে জ্বলে পানিতেও ভাসে
ছবি: সংগৃহীত

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য। নীলফামারীর ডোমারের হরিণচড়া ইউনিয়নের কঞ্চনা বিলের মাটি যেন অলৌকিক হয়ে দেখা দিয়েছে। যে মাটি আগুনেও জ্বলছে পানিতেও ভাসছে। আবার কেউ কেউ মশা তাড়ানোর কাজসহ জমিতে সার হিসেবেও ব্যবহার করছেন।

এদিকে সম্প্রতি কঞ্চনা বিল পরিদর্শন করেছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ। তার মতে, এই বিলের মাটি বিশেষ প্রকৃতির। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা জানান, বিলটিতে বৃষ্টি হলে বিলের মাটি ভেসে ওপরে উঠে আসে। শুষ্ক মৌসুমে আবার নিচে দেবে যায়। আবার মাছ চাষের জায়গা বের করতে প্রতিবছর এলাকাবাসী এই মাটি সরিয়ে নেন। মাটি কাটার সময় ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি স্থানীয়রা পেয়েছিল কষ্টিপাথরের বুদ্ধমূর্তি ও বেশকিছু মাটির হাঁড়ি। কষ্টিপাথরের মূর্তির মুন্ডটি লম্বায় সাড়ে ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থ আড়াই ইঞ্চি ছিল। এর ওজন ৭৫০ গ্রাম। পরে সেখানে প্রাচীন আমলের কয়েকটি ইট পাওয়া যায়।

Advertisement

এ ঘটনার পর থেকে সেখানে মাটি কাটতে আর কেউ সাহস পায় না। পরবর্তীতে পুলিশ সেই কষ্টিপাথরের মূর্তি জব্দ করে স্থানীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করেছে। এদিকে  এই বিলের ভেতরে থাকা চোরাবালিকে স্থানীয়রা  ‘ভুল’ বলে ডাকে। কেউ সেই চোরাবালিতে ‘ভুলে’ পড়লেই বেঁচে ফেরা মুশকিল।

স্থানীয় খাইরুল আলম নামে একজন জানান, বিলের পানিতে ভেসে ওঠা শুকনা মাটিগুলো বাড়িতে নিয়ে গরুর ঘরে জ্বালিয়ে রাখলে মশা থাকে না। এই মাটি দিয়ে ভাতও রান্না করা যায়। একসময় এখানে প্রচুর পরিমাণে খিলকদমের গাছ ছিল, বন্যপ্রাণী বাস করত, পাখি আসত, প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেত। এখন আর সেসব নেই।

এদিকে সরকারি ভূমি রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, জমি সংকোচনের পরও ১৯৯০ সালের আগপর্যন্ত এখানে ৮৪ বিঘা জলাভূমি ছিল। ১৯৯০ সালে উঁচু জমি স্থানীয়দের লিজ দেওয়ার পর এর আয়তন দাঁড়ায় ৬৯ বিঘায়। এ ছাড়া লিজ নেয়া অংশে মাটি ফেলে কৃষি জমিতে রূপান্তর করে এই মাটির বৈশিষ্ট্য নষ্ট করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) পঙ্কজ ঘোষ বলেন, এটা অফিসিয়িলি একটা বিল। শুকনো মৌসুমে এর একটা অংশ চাষাবাদের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বিল হওয়ার কারণে এই মাটিটা অর্গানিক মিটারে খুব সমৃদ্ধ মনে হচ্ছে। যা কোনো মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞ ভালো বলতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ মাটিটা অত্যন্ত উর্বর। এটি ফসলের জন্য যথেষ্ট সহায়ক হওয়ার কথা। আমার অচিরেই একজন মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেব। যাতে করে এই মাটিটা এর চেয়ে ভালো কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: নীলফামারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!