ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তালগাছ লাগাবেন পিয়ার

ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশিত: ১৪:৫১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তালগাছ লাগাবেন পিয়ার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের কলেজপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মালিথার ছেলে পিয়ারুল ইসলাম পিয়ার। আয়ের উৎস বলতে কেবল নিজের দুই বিঘা জমির চাষাবাদ আর অল্প আয়ের একটি বেসরকারি চাকরি। এ দিয়েই চলে তার সংসারের খরচাপাতি। দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গাছ লাগানোর ইচ্ছা পিয়ারুল ইসলামের।

কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতায় নয়, তার ইচ্ছা নিজের টাকায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তালগাছ লাগাবেন তিনি। স্ত্রী ও ছেলেরা তার লাগানো তালগাছগুলো প্রতিনিয়ত পরিচর্চা করে থাকেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার তালের বীজ সংগ্রহ করে নিজেই রোপণ করেছেন পিয়ার। তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় কে বা কারা গাছ কেটে ফেলছেন। এই ব্যাপারে তিনি থানায় ডায়েরি করেছেন।

গাছ লাগানোর প্রতি পিয়ার আলীর প্রবল আগ্রহ। ২০১৮ সাল থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তালের বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। এছাড়া নিজের টাকায় বীজ কিনে বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, ক্যানেলের ধারে এমনকি রেললাইনের ধারে বৃক্ষ রোপণ করে আসছেন। মূলত দেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে। এ থেকে মানুষকে বাঁচাতে তিনি কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাল গাছের বীজ রোপণ করেন। তার এ কাজে এলাকার মানুষেরও সহযোগিতা পান পিয়ারুল।

Advertisement

কৃষক পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫ বছর তালের বীজ রোপণ করছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করি মাঠের মধ্যে রোপণ করতে। কারণ, ফাঁকা মাঠে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছা যতদিন বেঁচে আছি, দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বৃক্ষ রোপণ করে যাবো। এ কাজে কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাই না। এমনকি এসব গাছ বড় হলে আমার কোনো দাবি থাকবে না। আমার একটাই দুঃখ সেটা হলো লাগানো তালগাছগুলো কে বা কারা কেটে ফেলেছেন অনেক জায়গায়। যারা গাছগুলো কেটে ফেলেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ গাছ আপনাদের। বিপদে আপনাদের কাজে লাগবে। তাই তালগাছগুলো না কেটে রক্ষা করুন।

ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র শামিমুল ইসলাম ছানা বলেন, কৃষক পিয়ারুল ইসলামের এই তালবীজ রোপণ নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ। তিনি আমাদের এলাকায়ও তালের বীজ রোপণ করেছেন। এটি বেড়ে উঠলে একদিকে যেমন পরিবেশের উপকার হবে। অন্যদিকে বজ্রপাত নিরোধে কাজে লাগবে।

ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি অফিসার শায়খুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে তাল গাছের বিশেষ প্রয়োজন। তাই পেয়ার আলীর মতো আমরা সবাই একটা করে তালগাছ রোপণ করি। পরিবেশ বাঁচাই এবং তালগাছ রোপণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: কুষ্টিয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!