গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ভ্যানচালক আব্দুর রহিম (৫০), নকলা উপজেলার মেদীরপাড় গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে সোহেল রানা (৩৫), নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী (৪৫), একই গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে সোহেল রানা এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামের মনির হোসেন হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার (৩২)।
পুলিশ সুপার জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকার একটি কবরস্থান থেকে এবং নকলা উপজেলায় একটি কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে। ঐ দুই ঘটনায় সদর ও নকলা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে পৃথক মামলা দায়ের হয়। মামলার তদন্তকালে পুলিশ কঙ্কাল চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করে। পরে সদর থানা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কঙ্কাল পরিবহনের কাজ করা ভ্যানচালক আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে।
.png)
এরপর তার দেওয়া তথ্যে সোহেল রানা, গোলাম রব্বানী ও বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- কঙ্কাল চুরির পর সেগুলো ঢাকায় নিয়ে কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সোহেল রানা ও রাসেল হাওলাদারের কাছে বিক্রি করা হতো। এরপর বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকেও গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম আরো জানান, চোর চক্রের সদস্যদের মধ্যে চারজন শেরপুরের বাসিন্দা। তারা রাত ১২টার পর কবরস্থানে গিয়ে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করতেন। কঙ্কাল চুরির আগে তারা বিভিন্ন কবরস্থানে গিয়ে দেখে আসতেন। এরপর যেসব কবর এক বছরের বেশি পুরাতন হয়েছে- সেসব কবরের কঙ্কাল চুরি করতেন। প্রথমে বেলচা ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ধীরে ধীরে কবর খুঁড়ে পা ঢুকিয়ে ভেতর থেকে হাড়গুলো বের করে আনেন। এসব কঙ্কাল বস্তায় ভরে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করতেন। এছাড়া তারা ঢাকায় বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে কঙ্কাল প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন। একেকটি কঙ্কাল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি।