এর আগে, রোববার ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাঘবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত লিটন ঐ এলাকার হাফেজ আহম্মদের ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নাসিমা বেগমের বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার মৌজারডাঙ্গা এলাকায়। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ভাইয়ের বাসায় এসে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তিনি। এ সময় লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তারা বিয়ে করে নগরের পাহাড়তলী থানার গ্রিনভিউ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
.png)
সংসার শুরুর কিছুদিন পর লিটন বিবাহিত, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে বলে জানতে পারেন নাসিমা। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ নাসিমাকে হত্যা করে মরদেহটি প্লাস্টিকের পানির ড্রামে ভরে বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান লিটন।
এদিকে, নাসিমার কোনো খোঁজ না পেয়ে বাগেরহাট থেকে চট্টগ্রামে আসেন তার স্বজনরা। এরপর তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে বাসায় রাখা ড্রাম থেকে নাসিমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় মামলা করেন নাসিমার ভাই মো. সেলিম হোসেন। মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর মামলার বিচার কাজ শুরু এবং আসামি লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, আলোচিত এ মামলার আসামি লিটনকে গ্রেফতারে নজরদারি ও ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে র্যাব। একপর্যায়ে র্যাবের কাছে তথ্য আসে- গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মনাম ধারণ করে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাঘবপুর নিজ গ্রামে অবস্থান করছেন লিটন। রোববার সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানান- দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের পানির ড্রামে ভরে রাখেন, যাতে কেউ জানতে না পারেন। এরপর বাসায় তালা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই ছদ্মনাম ধারণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছেন তিনি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।