এ ঘটনার প্রায় সাড়ে ৪ বছর পর দেলোয়ার মিজি গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। ওই দিনই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, কোনো ক্লু না থাকায় এবং দেলোয়ার স্বীকার না করায় তদন্তে অপেক্ষা আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দেলোয়ারের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে এক প্রতিবেশীকে পাঠানো ভয়েস মেসেজের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন দেলোয়ার।
.png)
জানা গেছে, দেলোয়ার লঞ্চের কেবিন বুকিং রেজিস্টারে নিলুফার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের নাম দিয়েছিলেন। কারণ, নিলুফার সঙ্গে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের সখ্যতা ছিল। এর ফলে প্রথমে জাহাঙ্গীরকে সন্দেহ করে মামলার আসামি করা হয়। কিন্তু ঘটনার আগে ও পরে জাহাঙ্গীরের কোনো মুভমেন্ট না পাওয়ায় অন্যপথে হাঁটতে থাকেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। একপর্যায়ে ভিকটিমের সঙ্গে একই গ্রামের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ দেখে সেখানে খোঁজ নেয় পুলিশ।
দেখা যায়, সে নম্বরটি প্রতিবেশী এক নারীর। পরে ওই নারী পুলিশকে জানায়, তার ব্রুনাই প্রবাসী স্বামী দেলোয়ার মিজি দেশে ফিরলে মাঝেমধ্যে তার মোবাইল ব্যবহার করেন। তবে তিনি ২৬ জুন ব্রুনাই চলে গেছেন। একপর্যায়ে ব্রুনাই প্রবাসী দেলোয়ারের সঙ্গে ভিকটিম নিলুফার পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি সন্দেহ হয়। এরপর পিবিআই তার পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবহিত করে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্তের সময় আমরা ওই এলাকায় কোনো তৎপরতা দেখাইনি। যেন সবাই বুঝতে পারে পুলিশের এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। মূলত আমরা দেলোয়ারের দেশে ফেরার অপেক্ষা করতে থাকি।
জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার মিজি জানান, ভিকটিম নিলুফা বেগমের স্বামী ২০১৫ সালে মারা যান। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। ২০১২ সালের দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে কাঠমিস্ত্রীর কাজের সুবাদে তার সঙ্গে দেলোয়ার মিজির পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে তিনি ব্রুনাই চলে গেলে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে। এরপর ২০১৯ সালে দেলোয়ার ২ মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে আসার পর তিনি নিলুফার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তখন নিলুফা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। দেলোয়ারের বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হলে নিলুফা সেখানে গিয়ে সম্পর্কের বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেন। কিন্তু নিলুফা ১৩ বছরের বড় হওয়ায় দেলোয়ার তাকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। এর ফলে তিনি নিলুফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ জুন নিলুফাকে বিয়ের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য লঞ্চে রওনা দেন দেলোয়ার। আর হত্যার দায় কৌশলে নিলুফার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তার নাম ব্যবহার করে লঞ্চের কেবিন বুকিং করেন। লঞ্চ ছাড়ার পর রাত ১২টার দিকে তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিলুফার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন দেলোয়ার। রাত দেড়টার দিকে বিয়ের কথা নিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে তার ফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ভিকটিমের গলা চেপে ধরেন। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।