নড়াইলে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক গ্রেফতার
নড়াইল, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে ২৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এসএম রায়হান আলী ওরফে শওকত হোসেন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতার রায়হান যশোর শহরের খড়কি এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে। তিনি যশোরে ডাক বিভাগে চাকরি করে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ‘রায়হান ওরফে শওকত ডিসি অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকরির কথা বলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে পাঁচ যুবকের কাছ থেকে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৬ মাস আগে আমাদের কাছে প্রথম এক যুবক অভিযোগ করেন। এরপর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী আরো এক প্রতারিত যুবক একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী যুবকের মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত এসএম রায়হান আলী ওরফে শওকত হোসেনের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি পেনড্রাইভ, পাঁচটি ভুয়া নিয়োগপত্র, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের নামের নয়টি সিল, নয়টি ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প, একটি ব্ল্যাঙ্ক ব্যাংক চেক, বিভিন্ন ব্যক্তির ১১টি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উদ্ধার করা হযেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এসএম রায়হান আলী ওরফে শওকত হোসেন চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য ডিসি অফিসের সামনে থেকে টাকার লেনদেন করতো। তার চাল-চলন, ব্যবহারে চাকরি প্রত্যাশীরা বিশ্বাস করে নিতেন, এসএম রায়হান আলী ওরফে শওকত হোসেন ডিসি অফিসে চাকরি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দোলন মিয়া, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা, নড়াইলে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।