৪৯ ফুট লম্বা এবং ৪২ ফুট প্রস্থের এ মসজিদটির ভেতরে সবকটি দেয়ালে লতাপাতা ও শৈল্পিক কারুকার্যের ছোঁয়া রয়েছে। নান্দনিক নির্মাণশৈলী এবং কারুকার্যে ঘেরা তিতাখাঁ জামে মসজিদকে ঘিরে কৌতুহলের শেষ নেই। আরবি সনের ১২২৯ হিজরি সনে স্থানীয় ইসলাম বক্স ভূঁইয়া বাড়ির সামনে একটি ঘন জঙ্গলে মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়।
তবে, রহস্যঘেরা মসজিদটির নাম কেনো তিতাখাঁ রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না। এমনকি কত সালে নির্মিত হয়েছে সেটিও সঠিকভাবে কেউ বলতে পারবে না। সেই সময়কার কেউ বেঁচে না থাকলেও পরমপরায় তাদের উত্তরসূরিরা বলছেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে মুঘল আমলে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। কারণ মসজিদের নান্দনিক নির্মাণশৈলী ও কারুকার্যের সঙ্গে সেই যুগের মুঘলদের তৈরি স্থাপনার মিল রয়েছে। এটি ইয়ামিন থেকে আসা পীর হযরত আজিম শাহ (র.) গভীর জঙ্গল সমৃদ্ধ বাগানের মধ্যে মসজিদটি আবিষ্কার করেন।
.png)
ইতিহাস বলছে, জনৈক ওমর আলী নামে এক কারিগর মসজিদটির কারুকার্য করেন। মসজিদের চার কোণায় চারটি ছোট মিনার, উপরের প্রথম অংশে তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া ভেতরে এবং বাইরের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে ভাঙ্গা সিরামিকের টুকরো।
একতলা বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল ইট, চুন এবং সুরকি দিয়ে। মসজিদের ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে কাঠের কাঠামোর ওপর ইট বসিয়ে, তাতে চুন এবং সুরকির প্রলেপ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যদিও বর্তমা অবকাঠোম কিছু সংস্কার করা হয়েছে। যার ফলে বেশকিছু নকশা পরিবর্তনও হয়েছে।
প্রাচীন এ মসজিদটিতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসেন। ধর্মের প্রতি টান ও ভালবাসার দায়ে উদার হাতে দান করেন সবাই। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মসজিদটি পরিপূর্ণ থাকে। এভাবে দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজে প্রায় ৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদের বাইরে এখনো বড় একটি দান বক্স রয়েছে।
নামজ পড়তে আসা মুসল্লিরা বলেন, ‘তৎসময়ে পীর সাহেবরা এসে মসজিদটি নির্মাণ করে গেছেন। তাই ইসলাম প্রচারকদের এই মসজিদটি এক নজরে দেখতে আসি। একইসঙ্গে ইবাদাত করে যাই।’ তারা জানান, মসজিদটিতে নামাজ পড়লে মন শীতল হয়ে যায়। বাইরে যত গরমই লাগুক না কেনো, ভেতরে ঠান্ডার পরিবেশ রয়েছে।
ঐতিহাসিক তিতাখাঁ মসজিদের মুয়াজ্জিন শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ২২ বছর এ মসজিদের তিনি খেদমত করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে নিয়মিত মুসল্লিদের বাইরেও শতশত মুসল্লি নামাজ পড়তে আসেন। জুমার দিন সবচেয়ে বেশি মুসল্লি দেখা যায়।’
তিনি আরো জানান, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া মসজিদের দান বক্স কিংবা জমাকৃত টাকা স্থানীয় তহশিল কার্যালয়ে জমা থাকে। সেখানে নিদিষ্ট আলমারি রয়েছে মসজিদের সম্পদ হিসেবে।