গত কয়েক দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় কিছুটা গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর পর কুয়াশা জড়িয়ে ধরছে প্রকৃতিকে। মাঝ রাত থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে। এরই মধ্যে লোকজনরা শীত মোকাবিলায় লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এদিকে শীত আগমনকে কেন্দ্র করে উপজেলার হাট বাজারে লেপ-তোশকের কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারিগররা সাদা, চায়না, গোলাপী, শিমুল, কার্পাস, হলুদ কম্বার, পলিউল তুলা দিয়ে লেপ আর কালো রাবিস কালো হুল, উইল তুলা দিয়ে জাজিম তৈরি করে বিক্রি করছেন।
.png)
এ উপজেলায় লেপ-তোশক তৈরিতে সাদা, কার্পাস চায়না কালো রাবিস আর হুল তুলার চাহিদা বেশি রয়েছে বলে জানান।
৫-৬ হাতের একটি লেপ নিচে ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ওপরে ৪ হাজার বিক্রি করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতে লেপ-তোশক তৈরি করে মওজুত করছেন।
এদিকে বাজারে শিমুল তুলা প্রতিকেজি ৫০০-৬০০ টাকা, কার্পাস তুলা ১৫০-১৭০ টাকা, বোমা তুলা ১১০-১২০ টাকা, চায়না তুলা ৮০-৯০ টাকা কালো হুল ৯০-১১০ টাকা, কালো রাবিশ ৬০-৭০ টাকা, সাদা তুলা ১১০-১২০ টাকা করে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।
গত বছরের চাইতে এবার প্রকার বেধে তুলা প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তাছাড়া গজ কাপড় সেখানে গত বছর প্রতি গজ ৩০ টাকা বিক্রি হতো বর্তমানে সেখানে ৪০-৫০ টাকা গজ বিক্রি হচ্ছে। তাই লেপ-তোশকের দামও বেড়েছে।
লেপ-তোশকের দোকান মালিক মো. হানিফ মিয়া বলেন, এ বছর শীত আগমনের শুরুতেই ক্রেতাদের লেপ- তোশক তৈরিতে ভালো চাহিদা রয়েছে। ক্রেতাদের আনাগুনা থাকবে পুরো শীতজুড়ে। সাধারণত বিত্তবানরা শীত আসার আগেই লেপ ও তোশকের অর্ডার দিয়ে থাকেন। এবার শীত অনুভূত হওয়ার আগেই নতুন তৈরির পাশাপাশি পুরোনো লেপ-তোশকের মেরামত কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ২০টির অর্ডার পেয়েছি।
তিনি আরো জানান, এক একটি লেপ-তোশক তৈরি করতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এর মজুরি ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা পান।
লেপ-তোশক ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, তুলার মান ও পরিমাপের ওপর নির্ভর করে তৈরির খরচ নির্ধারণ করা হয়। এ বছর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপ-তোশকের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে মজুরিও। তাছাড়া গজ কাপড় ১০-২০ টাকা প্রতি গজে বেড়েছে। ভালো মানের একটি লেপ তৈরি করতে সব মিলিয়ে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে উপরে ৪ হাজার টাকা। আর তোশকে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে তিনি ৬ টি লেপ তৈরির অর্ডার পেয়েছেন বলে জানান। তাছাড়া প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে লেপ-তোশক।
কারিগর মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। শীতকে কেন্দ্র করে কেউ পুরোনো লেপ ভেঙে নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছেন। তুলা, কাপড়সহ মজুরির দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশকের দাম কিছুটা বেড়েছে।
ক্রেতা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, শীত আসতে শুরু করায় আগে ভাগেই একটি লেপ ও একটি তোশক বানানোর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ জন্য লেপ ও তোশকের মজুরি দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬ শ টাকা।
গৃহিণী ফাতেমা আক্তার বলেন, শীতে মোটা কাঁথা-কম্বল যাই বলেন না কেন, লেপ ছাড়া চলে না। তাই শীত আসার আগেই সাদা তুলার একটি লেপ তৈরিতে অর্ডার দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ২৫শ টাকা দিতে হয়েছে।
এদিকে শীত মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানের নারীরা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের ফাঁকে অবসর সময়টুকু মনের মাধুরি মিশিয়ে নিপুণ কারুকার্যে কাঁথা সেলাই করছেন। নিজেদের ব্যবহারসহ বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করছেন। একটি কাঁথার মজুরি নিচ্ছেন ৫শ থেকে ৬ শ টাকা।
মনিয়ন্দ ইউপির আফিয়া বেগম বলেন, গত ৫ বছর ধরে শীত উপলক্ষে নানা রকমের কাঁথা তৈরি করে বিক্রি করছি। এ কাজে দুই মেয়ে সহযোগিতা করছে। এ পর্যন্ত ১০ টি কাঁথার অর্ডার পেয়েছি। স্থানীয় পর্যায়ে কাঁথার ভালো চাহিদা রয়েছে। মূলত কাঁথার কাজের ওপর নির্ভর করে মজুরি নেয়া হয়।