শনিবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট পৌরসভার কেন্দ্রা গ্রামের চা দোকানদার আব্দুল জলিলের ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার সদ্য বিবাহিত মেয়ে ঝর্ণা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর পাশের বাড়ির জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী তাদের ঘরের ভেতর মারামারির শব্দ শুনে দোকানে গিয়ে আব্দুল জলিলকে খবর দেন। আব্দুল জলিল ঘরে এসে দেখেন তার মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। এ সময় আব্দুল জলিলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঝর্ণাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
.png)
১৭ দিন আগে উপজেলার জোড্ডা গ্রামে আপন ফুফাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনেের সঙ্গে মোবাইলে বিয়ে হয় ঝর্ণার। দেলোয়ার দুবাই প্রবাসী।
নিহতের বাবা আব্দুল জলিল বলেন, জয়নাল ভাইয়ের স্ত্রী ঘরে আওয়াজ শুনে আমার কাছে ছুটে আসেন। আমি বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ঝর্ণার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। রক্তে পুরো ঘর ভেসে গেছে এবং তার মাথার মগজ পাশেই পড়ে আছে। কয়েকদিন আগে ঝর্ণার মোবাইল চুরি হওয়া নিয়ে আমার ছেলে শাহীনের স্ত্রী কলি আক্তার ও মেয়ের বান্ধবী পাশের বাড়ির খুকির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। মোবাইল চুরির ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী কলি ও মেয়ের বান্ধবী খুকি একে অপরকে দোষারোপ করে। এনিয়ে খুকি ও তার পরিবারের লোকদের সঙ্গে আমার পুত্রবধূর ঝগড়া হয়। পরে ঐ মোবাইল আমাদের ঘরে কে বা কারা রেখে যায়।
তিনি আরো বলেন, পুত্রবধূ শুক্রবার আমার ছেলেসহ তার বাবার বাড়ি উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে বেড়াতে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় ঝর্ণা ঘরে একা ছিল।
আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, আমার মনে হয়- ঐ মোবাইল চুরির ঘটনাই ঝর্ণার জন্য কাল হয়েছে। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই।
নাঙ্গলকোট থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।