গ্রেফতারকৃত আমেনা খাতুন কালিয়া উপজেলার আমতলা গ্রামের মৃত ছিদ্দিক ফকিরের মেয়ে।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ১৩ থেকে ১৪ বছর আগে ইবাদুল শেখের সঙ্গে আমেনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। ইবাদুল পেশায় ভ্যানচালক হওয়ায় সংসারে অভাব অনটন নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়া হতো। এবাদুলের নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি পাশাপাশি গ্রামে হওয়ায় আমেনা খাতুন প্রায় তার পিতার বাড়িতে চলে যেতেন।
.png)
২০২০ সালের ৯ মে সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে আমেনা খাতুন তার পিতার বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দিন রাতে ইবাদুল তার স্ত্রীকে ফেরত আনতে শ্বশুরবাড়ি আমতলা গ্রামে যান। পরদিন সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশে বাঁশের সঙ্গে গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় ইবাদুলের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, ইবাদুলকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর ২০২০ সালের ৮ জুন এবাদুলের পিতা সবুর শেখ বাদী হয়ে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় বিচারক আসামি আমেনা খাতুনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার আগে থেকেই আসামি আমেনা খাতুন পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারের পর সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।