রাকিব হত্যায় সন্ত্রাসী শাওনসহ গ্রেফতার ৬
ময়মনসিংহ নগরীতে আব্দুর রাজ্জাক রাকিব নামের এক যুবককে হত্যার পাঁচদিন পর প্রধান আসামি ইয়াছিন আরাফাত শাওন (৩৫) ও তার ভাই মাসুদ পারভেজসহ (৩৭) ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- আনিছুর রহমান ফারুক (৩৮), মো. মানিক (৩২), মো. মবিন (৩৩) ও শান্ত (২০)। গ্রেফতার সবাই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের আমিন বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ফারুক হোসেন।
.png)
তিনি বলেন, হত্যার পর থেকেই পলাতক ছিলেন আসামিরা। কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছিল। অবশেষে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে ময়মনসিংহে আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে, শনিবার তিনটি হাইয়েজ গাড়ি ময়মনসিংহ শহরে আসার পথে চায়না মোড়ের টুলবক্সের সঙ্গে সাব্বির ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে একটি ট্রাকের পেছনে আটকা পড়ে। ওই ট্রাকটি থেকে সিটি কর্পোরেশনের চাঁদা তোলা হচ্ছিল। ট্রাকটি সাইড না দেওয়ায় ওভারটেকের সময় গাড়িতে ঘষা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়িতে থাকা ট্রাকচালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান শাওন ও তার লোকজন।
একপর্যায়ে তারা ট্রাকচালককে মারধর শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসচালকসহ অন্যরা তাদের থামাতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে আব্দুর রাজ্জাক রাকিব, সাদেক আলী, শহিদ মিয়া নামে তিনজন রক্তাক্ত জখম হন। এ অবস্থায় আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত দুইজন হলেন- একই এলাকার জায়েদ উদ্দিনের ছেলে সাদেক আলী (৩২) ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাউগড়া এলাকার মৃত আক্তার আলীর ছেলে শহিদ মিয়া (৪০)। তারা বাসচালক ও হেলপার। রাকিব হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই স্থানীয়রা চায়না মোড়ে সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের মা হাসি বেগম শাওনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।