লালমোহন পৌরশহরের মধ্যবাজারের সদর রোড সংলগ্ন ফুটপাতের এমনই এক পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানদার মো. ছিদ্দিক। তিনি সাত বছর ধরে শীতের মৌসুমে পুরোনো শীতবস্ত্র বিক্রি করছেন। যার আয় থেকে চালাচ্ছেন সংসার।
শীতবস্ত্র বিক্রেতা ছিদ্দিক বলেন, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে চট্টগ্রাম থেকে পুরোনো শীতের পোশাক এনে বিক্রি করি। ২০ দিন আগে থেকে এবারো শুরু করেছি এসব শীতবস্ত্র বিক্রি। যেখানে রয়েছে- শিশুদের জ্যাকেট, গেঞ্জি, হুডিসহ বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র। আর বড়দের জন্য রয়েছে- গেঞ্জি, ট্রাউজার, জ্যাকেট এবং সোয়েটার।
.png)
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকালে থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। এর মধ্যে সন্ধ্যার পরে বেচা-কেনা কিছুটা ভালো হয়। তবে শীত এখনো বেশি না পড়ায় বিক্রি কম। বর্তমানে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। শীত বাড়লে এ বিক্রি আরো বাড়বে। এই পুরোনো শীতবস্ত্র কিনতে আসেন সব শ্রেণির ক্রেতারাই। কারণ এখানে তারা কম দামে মোটামুটি ভালো পোশাক পেয়ে থাকেন।
ছিদ্দিক বলেন, শীতের মৌসুমে এই পোশাক বিক্রি করি। তবে বছরের অন্য সময় নতুন পোশাক পাইকারি বিক্রি করি। এই নতুন আর পুরোনো এই পোশাক বিক্রি করেই কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর। এখানকার আয় দিয়েই চলছে সংসার। সংসারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। সন্তান দুইজন পড়ালেখা করে।

পুরোনো শীতবস্ত্র কিনতে এসেছেন মো. সোলেমান। তিনি বলেন, বাচ্চার জন্য শীতের পোশাক কিনতে এসেছি। নিজের সাধ্যের মধ্যে কম দামে এখানে ভালো বস্ত্র পাওয়া যায়। শীতের মধ্যে বাড়িতে পরার মতো কয়েকটি পোশাক নিয়েছি। এসব পোশাকের দাম মার্কেটের দোকানগুলোর চেয়ে অনেক কম।
আরেক ক্রেতা মোসা. হাফসা বেগম বলেন, এখানকার পোশাকগুলোর দাম অনেক কম। পোশাকের মানও মোটামুটি ভালো। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের অনেক কিছু পাওয়া যাচ্ছে, যা বাজারের অন্যান্য দোকানে অনেক বেশি। সেখানের একটি পোশাকের দাম দিয়ে এখান থেকে দুই থেকে তিনটির বেশি পোশাক কেনা যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, নিজের জন্য একটি সোয়েটার এবং বাচ্চার জন্য গেঞ্জি আর জ্যাকেট নিয়েছি। দাম অনেক কম। যখন তীব্র শীত পড়বে তখন এসব পোশাকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাওয়া যাবে।