ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৪ কেজি বাদাম বিক্রিতে চলে সংসার

মাহাবুল ইসলাম, রাজশাহী
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
৪ কেজি বাদাম বিক্রিতে চলে সংসার
বাদাম বিক্রি করছেন ইয়ারুল ইসলাম- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অর্ধযুগ আগে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্যেই পরিবার নিয়ে জীবন-যাপন করছিলেন। হঠাৎই একদিন একটি টিনের টুকরো এসে আঘাত করে চোখে। শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে ছোট্ট এ আঘাতেই ঘুরে যায় জীবনের বাঁক। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে একটি চোখ নষ্টও হয়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে দিকভোলা এই পরিবার ক্ষুদ্র একটি উদ্যোগেই বদলে গেছে। জীবন সংগ্রামে হাসি-মুখের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন রাজশাহীর আড়ানী উপজেলার বাসিন্দা ইয়ারুল ইসলাম।

রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান নিয়ে বাদাম বিক্রি করেন তিনি। ইয়ারুল ইসলাম জানান, তার ব্যবসায়ের সম্বল বলতে ৪ কেজি বাদাম ও এক কেজির মতো ছোলা আছে। বিপদের সময়ে এই বাদামের ব্যবসায় পাশে ছিল। এই দিয়েই দুই ছেলের পড়াশোনাসহ সংসার এখন স্বাচ্ছন্দ্যেই চালাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, তার বড় ছেলে তারিফ হোসেন (১৮) নাটোরের একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। গত দুই বছর থেকে টিউশনি করিয়ে তিনি নিজের খরচটুকু অনেকটায় মিটিয়ে নিতে পারেন। বাকিটা তিনি দেন। আরেক ছেলে তন্ময় হোসেন (১৪)। সে আড়ানীর একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

Advertisement

ইয়ারুল বলেন, ‘আমার স্ত্রী গৃহিণী তানিয়া খাতুন (৩৬) প্রতিদিন আমাকে বাদাম ও ছোলা ভেজে দেয়। প্রতিদিন আমি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই সেই বাদাম ও ছোলা নিয়ে শহরে চলে আসি। গড়ে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি বিক্রি হয়। যেখান থেকে ৪০০-৫০০ টাকা আয়। সেটা দিয়েই সংসার চলে যায়। তবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বেচাবিক্রি কমে যায়। আর এক চোখ অন্ধ ও কানে কম শুনতে পাই বলে মানুষও কাজে নিতে চায় না। এ সময়ে কিছু সমস্যা হয়।’

ইয়ারুল জানান, শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনি। এ কারণে ঘাড়ে বাদাম নিয়ে তেমন হেঁটে চলে বেড়াতে পারেন না। তাই তার বেচাবিক্রি অন্যদের চেয়ে কম। তিনি নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার স্কুল-কলেজ আর মেডিকেলের সামনে বসেই বাদাম বিক্রি করেন। তিনি গত পহেলা বৈশাখে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করেছেন।

ইয়ারুল বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করিনি। কিন্তু আমার ছেলে দুইটা পড়াশোনার প্রতি ভালো আগ্রহ আছে। তারা পড়াশোনা শিখে বড় হলে কষ্টগুলো কমে যাবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!