দীর্ঘদিন পায়ের চিকিৎসা নেয়ার পরও থেমে নেই তার জীবন। বলছি ভাঙা পা নিয়েই পথে পথে চা বিক্রি করে সংসার চালানো নয়ন মিয়ার কথা।
তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিরাহারগাতী গ্রামে। দুই হাতে দুটি চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে বের হয়ে পড়েন সকালে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলে চা বিক্রি। দিনশেষে ৩০০-৫০০ টাকা আয় হয় তার। আর এ আয়েই চলে সংসার। ছোট একটি দোকান দেওয়ার সামর্থ্যও নেই তার। তাই কষ্ট করে ভাঙা পা নিয়েই চা বিক্রি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি সম্মুর দোকান এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।
.png)
নয়ন জানান, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। পরে বছরখানেক সময় চিকিৎসার পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটেন। কিন্তু ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। এ কারণে স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে দুটি ফ্লাস্ক কিনে শুরু করেন পথে পথে চা বিক্রি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে তার সংসার চলছে। একটি দোকান হলে তার কষ্ট কিছুটা কমতো এবং সংসারও ভালোভাবে চলতো বলেও জানান তিনি।
সম্মুর দোকান এলাকার জামাল উদ্দিন জানান, তার এ সংগ্রামী জীবন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। ভাঙা পা নিয়েও তিনি চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন এটা দেখে সমাজের অনেকের শেখা উচিত। তবে তাকে একটি দোকান করে দিলে সেটা তার জন্য সহজ হতো।
১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম জানান, তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন বলেও নিশ্চয়তা দেন।