রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির। এর আগে, শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার সাতাশি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া দুর্গাপুর উপজেলার সাতাশি গ্রামের হাছেন মিয়ার ছেলে।
নিহত সুফিয়া খাতুন কলমাকান্দা উপজেলার আতকাপাড়া গ্রামের মো. আলাল উদ্দিনের মেয়ে। তার আট ও ছয় বছর বয়সী দুইটি সন্তান রয়েছে।
.png)
র্যাব জানায়, দুই সন্তানসহ বাবা আলাল উদ্দিনের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় বসবাস করতেন সুফিয়া খাতুন। সোহেল ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। একই জেলায় বাড়ি হওয়ায় সুফিয়াদের বাসায় আসা যাওয়া ছিল সোহেলের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আগের স্বামীর সঙ্গে সুফিয়ার বিচ্ছেদ ঘটান সোহেল।
পরে কাজ না থাকায় আলাল উদ্দিন তার মেয়ে সুফিয়া ও সন্তানসহ গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দায় চলে আসেন। গ্রামের বাড়িতেও আসা-যাওয়া করতেন সোহেল। বিয়ের প্রলোভনে সুফিয়াকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন সোহেল। এতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন সুফিয়া। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে অস্বীকৃতি জানান সোহেল। উল্টো গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন।
এতে রাজি না হলে গত ১৪ আগস্ট সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে সুফিয়ার পেটে লাথি মারেন। তাৎক্ষণিক রক্তক্ষরণ শুরু হয় সুফিয়ার। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ আগস্ট মারা যান সুফিয়া। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সুফিয়ার বাবা আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়। তবে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত সোহেল মিয়া। এরপর সোহেলকে ধরতে অনুসন্ধান চালায় র্যাব। পরে অবস্থান শনাক্ত করে শনিবার রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর থেকে সোহেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল।
র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, সোহেলকে কলমাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুল হক। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত সোহেলকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।