খড়-বিচালি কেটে চলে সংসার
গবাদিপশুর অন্যতম খাবার খড়-বিচালি। এ গো-খাদ্য ছোট ছোট টুকরা করে কেটে পশুকে খাওয়ানো বেশ ঝামেলার কাজ। প্রচলিত পদ্ধতিতে খড়-বিচালি টুকরো করে কাটা সময়সাপেক্ষ। এই চিন্তা থেকেই স্বল্প দামে খড়-বিচালি কাটার মেশিন নিয়ে গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে হাজির হন হানিফ শেখ। মোবাইলে কল করলেই মেশিন নিয়ে পৌঁছে যান তিনি। মেশিনটি একটি ভ্যানের ওপর সেট করেছেন হানিফ। ফলে তেমন কোনো খরচ হয় না তার। নিজেই ভ্যান চালিয়ে চলে যান খামারি ও কৃষকের বাড়িতে।
হানিফের বাড়ি মাগুরা শালিখা উপজেলার শরুশনা গ্রামে। আগে যেখানে তার প্রতিদিন আয় হতো মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন সেখানে প্রতিদিন আয় হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। কোনো কোনো দিন আবার এই আয় ১ হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। খড়-বিচালি কেটেই নিজের ভাগ্য বদলেছেন তিনি। এখন আর তাকে অর্থ কষ্টে ভুগতে হয় না। বেশ ভালো ভাবেই চলছে তার সংসার।
হানিফ শেখ বলেন, মেশিনে দ্রুত খড়-বিচালি কেটে প্রাপ্য টাকা বুঝে নিয়ে অন্য বাড়িতে হাজির হই। মেশিনটিতে একটি দুই হর্সপাওয়ারের মোটর রয়েছে। এই মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ থেকে এক হাজার আটি খড়-বিচালি কাটা যায়। এক হাজার আটি খড় কাটতে ২০০ টাকা নিয়ে থাকি।
.png)
শালিখা উপজেলার বুনাগাতি গ্রামের জাকির মোল্লা বলেন, আমার বাড়িতে চারটি গরু আছে। আগে খড় কাটার জন্য লোক রাখতে হতো। এখন সেই ঝামেলাটা নেই। খড় কাটার প্রয়োজন হলেই হানিফের মোবাইলে কল করলেই দ্রুত এসে মেশিন দিয়ে খড় কেটে দিয়ে যান। এতে বেশ উপকৃত হচ্ছে গ্রামের মানুষ। পাশাপাশি এই পেশা অনুসরণ করে হানিফের মতো অনেকেই তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করেছেন।