ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

বরিশাল
প্রকাশিত: ০১:২৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
ফাইল ফটো

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে নিহত চম্পার (২২) স্বামী সুমন ব্যাপারী দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন। উপজেলার ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার রাত ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য চম্পার লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত চম্পা উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের আনোয়ার মল্লিকের মেয়ে ও উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে সুমন বেপারীর স্ত্রী। চম্পার পরিবার বানারীপাড়া পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

Advertisement

চম্পার শ্বশুর তৈয়ব আলী ব্যাপারী ও শাশুড়ি আলেয়া বেগম জানান, চম্পা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেন।

অপরদিকে চম্পার স্বজনদের দাবি, চম্পাকে মারধর করে হত্যার পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় চম্পার মা রেবা বেগম বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চম্পার বাবা-মা ও ভাইসহ স্বজনদের অভিযোগ, জামাতা সুমন বেপারী ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে সম্প্রতি ৬ শতক জমি ক্রয় করে। ঐ জমি কিনতে গিয়ে সে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তা পরিশোধের জন্য চম্পাকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। মেয়ের সুখের কথা ভেবে তার বাবা-মা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে জামাইকে ১৫ হাজার টাকা দেন। এতেও সুমন সন্তষ্ট না হয়ে স্ত্রীর কাছে আরো টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ সৃষ্টি হয়।

সুমন টাকার দাবিতে গালাগালিসহ স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন শুরু করেন। গত ৮–৯ দিন আগে চম্পা তার শিশুকন্যাকে নিয়ে বানারীপাড়া পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে তার বাবা আনোয়ার মল্লিকের বাড়িতে এসে ওঠেন।

রোববার সন্ধ্যায় সুমন শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সুমন স্ত্রী চম্পাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বাধা দেন। পরে সুমন তার বাড়ি ফিরে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চম্পা তার দু’বছরের শিশুকন্যা তানহাকে নিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে স্বামীর বাড়ি ফিরে যান।

সেখানে যাওয়ার পরে তাদের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া হয়। ঐদিন রাত ১০টার দিকে চম্পাকে অচেতন অবস্থায় তার শাশুড়িসহ প্রতিবেশীরা বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ ঘটনার পর থেকে শিশুসন্তান নিয়ে পলাতক আছে সুমন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!