মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিদের পুলিশ পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকেই আসামিরা জেলহাজতে ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লৌহজং উপজেলার উত্তর মসদগাঁও গ্রামের মৃত নাজির আহমেদ শিকদারের ছেলে মিলন শিকদার এবং একই গ্রামের মিলন খানের ছেলে মো. ফয়সাল ও জুয়েল শেখ।
.png)
আদালতের ব্রেঞ্চ সরকারী মো. হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল বারেক শেখ টংগিবাড়ী উপজেলার হাসাইল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সহকারী উদ্যোক্তা ছিলেন। ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে আব্দুল বারেক শেখ বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টংগিবাড়ী থানা পুলিশ নিহতের বাবা মোস্তফা শেখ মোড়লকে জানায় আব্দুল বারেক জখম হয়ে বলই-তৌলকাই সড়কের ব্রিজ এলাকায় পাশে পড়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন আসামিরা লৌহজং উপজেলা হতে পাশের টংগিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজারে এসে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। তাদের একজন ব্যাংকে ঢুকে বেশি টাকা উত্তোলনকারীকে শনাক্ত করতে থাকেন। অপর দুইজন ব্যাংকের সামনে অবস্থান করের। এ সময় আব্দুল বারেক শেখ ব্যাংক থেকে কাঁধে একটি স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে অটোরিকশাযোগে টংগীবাড়ী বাজারের দিকে রওনা দেন। আসামিরা মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটি অনুসরণ করতে থাকেন। আব্দুল বারেক বলই-তোলকাই সড়কের ব্রিজের মাঝামাঝি নির্জন স্থানে পৌঁছলে আসামিরা অটোরিকশা থামিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। তিনি নামতে না চাওয়ায় আসামি ফয়সাল তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আব্দুল বারেকের কাঁধের বাম পাশে আঘাত করেন।
এ সময় আব্দুল বারেক অটোরিকশা থেকে পড়ে গেলে আসামি মিলন তার পিঠের বাম পাশে আঘাত করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নেন। আসামিদের আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আব্দুল বারেক। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোস্তফা বাদী হয়ে টংগিবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়া আসামিরা গ্রেফতারের পর আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। মঙ্গলবার এ মামলায় তিন আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় অপর এক দণ্ডবিধিতে আসামিদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।