ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভার্মি কম্পোস্টে সফল রেজাউল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৯, ২১ জানুয়ারি ২০২৪
ভার্মি কম্পোস্টে সফল রেজাউল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তরুণ কৃষক মো. রেজাউল। চাকরির পিছনে না ঘুরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে মনোনিবেশ করেন তিনি। আর এতেই বেকারত্ব দূর করে সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। কৃষক মো. রেজাউল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দা।

উদ্যোক্তা রেজাউল বলেন, নলছিটি কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২০২০ সালে এসএসিপি প্রকল্পের একটি প্রদর্শনী দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেছি। সেই সময় ৬০০ টাকা প্রথম বিক্রি, এরপর থেকে আমার পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন প্রতি মণ সার ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি কেঁচোর দাম ৮০০-১০০০ টাকা দরে আমি বিক্রি করছি। আমার কৃষি কাজে এ সার ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে ফসল পাচ্ছি। ফলে আমি স্বাবলম্বী ও সফল কৃষক।

এ সার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে গোবর সংগ্রহ করে সংগৃহীত গোবর ২০-২৫ দিন একস্থানে গচ্ছিত রেখে পরে হাউজ ও চাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর কেঁচো ছেড়ে দিতে হয় গোবর দিয়ে। এ গোবর কেঁচো বেশি খায় তাই সারও বেশি হয়।

Advertisement

উপজেলা কৃষি অফিসার সানজিদ আরা শাওন জানান, পর্যায়ক্রমে চাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করে আসছেন কৃষক রেজাউল। এখন তার চাড়ির সংখ্যা প্রায় ২০টি। সেখানে প্রায় ৫০টি চাড়ির পরিমাণ গোবর রাখা যায়। পাশাপাশি তিনি কেঁচো সরবরাহ করেন।

তিনি আরো বলেন, নলছিটি উপজেলা দপদপিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার অত্র উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষে প্রকল্পের মাধ্যমে মো. রেজাউলকে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তার দেখাদেখি এখন এই গ্রামের অনেকেই এই সার উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন বিধায় আমরা গ্রামটিকে ভার্মি গ্রাম হিসেবে নামকরণ করেছি। আগামীতেও এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এই ধরনের উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত সার কৃষি অফিস ক্রয় করছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই সার উৎপাদনও ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে কেঁচো সার ক্রয় করা হয়। আর এই সার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তা রেজাউলের দেখাদেখি এখন টুলু বেগম, জামাল, রায়হান, রশিদ রাড়ি, মুরাদ হোসেন, কালামসহ প্রায় ৩০টি পরিবার মডেল ভার্মি কম্পোস্ট সার (কেঁচো সার) উৎপাদন করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করছেন। এছাড়াও এই সার কৃষকের কাছ থেকে বরিশালের সারের দোকান ও কৃষি অফিস ক্রয় করে থাকেন বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!