রোববার পাকুন্দিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। এর আগে, শনিবার বিকেলে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই তরুণী গাজীপুরের এক গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বীর পাকুন্দিয়া গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. কাউসার আহম্মেদ, একই গ্রামের খসরু মিয়ার ছেলে জুবায়েদ হাসান শুভ ও উপজেলার চর পাকুন্দিয়া গ্রামের মুক্তার উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন রাজু।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকুন্দিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামান টিটু।
ভুক্তভোগী তরুণী ও পুলিশ জানায়, পাকুন্দিয়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী তরুণী জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। চাকরি করার সময় একই উপজেলার সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে বন্ধুত্ব হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ের করবেন। শনিবার বিয়ের কথার জন্য ওই তরুণী তার বাড়িতে আসে। ওইদিন বিকেলেই দেখা করেন সাব্বিরের সঙ্গে। পরে সাব্বির ওই তরুণী এবং তার বন্ধু আশরাফকে নিয়ে হুমায়ুন কবিরের অটোরিকশায় ঘুরতে যান।
ঘুরতে গিয়ে উপজেলার তারাকান্দি বাজারে পৌঁছালে কাউসার, জুবায়েদ, মেহেদী হাসান, হৃদয়, বাবু, তোফাজ্জল ও ইয়াসিন অটোরিকশাটি আটকিয়ে ভয় দেখিয়ে তারাকান্দি ফাজিল মাদরাসার মাঠে নিয়ে যান। পরে ওই তরুণীর প্রেমিকের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। টাকা না দিলে ভুক্তভোগী তরুণী এবং তাদের সঙ্গে থাকা অটোরিকশাটি ছাড়বে না বলে জানায়।
এদিকে অভিযুক্তরা সাব্বির, হুমায়ুন ও ভুক্তভোগীর বন্ধু আশরাফকে মাদরাসার মাঠে ভয় দেখিয়ে দাঁড় করিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায় ওই তরুণীকে। এরপর ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন তারা।
ঘটনার সময় মাদরাসার মাঠে থাকা সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ টাকা সংগ্রহের কথা বলে কৌশলে থানায় এসে পুলিশকে জানায় তাদের অটোরিকশা আটকে টাকা দাবি করছে কয়েকজন তরুণ। এই সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে অটোরিকশাটি জব্দ করা অবস্থায়ও পায়। পরে পুলিশ জানতে পারে অটোতে আসা এক তরুণীকে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ পরিত্যক্ত ঘরটিতে গেলে পালিয়ে যান তারা। তবে কাউসার ও জুবায়েদকে ঘর থেকে পালানোর সময় আটক করে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে সহযোগী তোফাজ্জলকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। ঘটনার পরপরই কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার নারী, শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
ওই তরুণীর প্রেমিক সাব্বির হোসেন বলেন, আমরা বিয়ে করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কারণেই সে আসে পাকুন্দিয়ায়। আমি আমার ফুফুর বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমার ফুফু রাজি হলেই আমার পরিবার বিয়েতে সম্মতি দিত। তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার সময় এই কথাগুলো বলছিলাম। হঠাৎ কাউসার, জুবায়েদ, মেহেদী, হৃদয়, বাবু, তোফাজ্জল ও ইয়াসিন মিলে আমাদের অটোরিকশা আটকিয়ে মাঠে নিয়ে যায়। এরপর টাকা দাবি করেন। পরে ওই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।
সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ বলেন, তারা যে টাকা দাবি করছে সে টাকা আমাদের কাছে নেই। আমরা কোথা থেকে টাকা দিব। পরে মাথায় আসে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলে আমাদের অটোরিকশাটি উদ্ধার করে দিবে তাই পুলিশের কাছে চলে যাই। কিন্তু তারা এমন ঘটনা ঘটাবে তা একবারও ভাবিনি।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, গ্রেফতার তিন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। রোববার দুপুরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।