মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকার গফুর মণ্ডলের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মিম নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার খোকসাবাড়ি গ্রামের মোংলা সনদারের মেয়ে। আর নাঈম মিয়া নাটোর জেলা সদরের মকিনপুর এলাকার জালাল উদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দেড় বছর আগে মিম ও নাঈমের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর নাঈম আবারো বিয়ে করেন। এরপরেও নাঈম আবার মিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। নাঈম প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে মিমকে বিরক্ত করতো। একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে মিমের ভাড়া বাসায় আসেন তিনি। সেখানে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় মিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।
.png)
নিহত মিমের রুমমেট নাতাশা বলেন, কিছুদিন ধরে নাঈম মাঝেমধ্যে তাদের বাসায় আসতেন এবং মিমকে আবার বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। কিন্তু মিম তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। নাঈমের চাপে মিম সম্প্রতি বিয়েতে সম্মত হলেও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দিনক্ষণ ঠিক করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু নাঈম তা মানতে চাইছিলেন না।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে নাঈম বাসায় আসেন। বিয়ে নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় নাঈম ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাকে বের করে দেন। আমি ঘর থেকে বের হওয়ার পরপরই সম্ভবত ওই ছুরি দিয়েই মিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। মিমের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে নাঈম ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মিমের বড় ভাই খোরশেদ আলম বলেন, নাঈম মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে তার বোনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। নাঈম আবার আমার বোনকে বিয়ে করার জন্য মাঝেমধ্যেই তাকে উত্ত্যক্ত করত। এরই জেরেই আমার বোনকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে।
আশুলিয়া থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে
আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।