সরিষার হলদে ফুলে সেজেছে মাঠ
নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল। চৈতালি ফসল হিসেবে শীত মৌসুমে আবাদ করা হয় সরিষার। যে দিকে দুই চোখ যায় হলুদ সরিষা ফুলে সেজে আছে মাঠের পরে মাঠ। এ যেন হলুদের গালিচা। সকালের সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই সরিষা ফুলের সমারোহে হেসে ওঠে চারদিক। দৃষ্টিনন্দন এমন দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যেই মন ভালো হয়ে যায়! হলুদ সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহের জন্য দলে দলে মৌমাছিরা উড়ে আসছে আর যাচ্ছে।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর প্রায় ২২ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে তিন হাজার হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টরে ১.৩০ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় যার বাজার মূল্য প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা। ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জেলায় এ বছর সরিষার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা, রাউতড়া, আলমখালি, শেখ পাড়া, মঘী, বাল্য, ডেফুলিয়া, তেঘরিয়া, বালিয়াডাঙ্গা, বেঙ্গা বেরইলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরিষার ফুলে মধু আহরণকে কেন্দ্র করে মাগুরায় গড়ে উঠেছে ছোটবড় প্রায় একশটি মধুর খামার। দশ বছর আগেও যেখানে খামারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২টি। খামারগুলিতে কর্মসংস্থান হচ্ছে ৫ শতাধিক শ্রমিকের। এসব খামারে উৎপাদন হয় অন্তত দেড়শ টন মধু। বাজারে প্রতি মণ মধু ১৬ হাজার টাকা হিসেবে যা বিক্রি করে আয় হবে ৬ কোটি টাকার বেশি।
.png)
সদরের শেখ পাড়া গ্রামের সরিষা চাষি মো. মোয়াজ্জেন হোসেন বলেন, কয়েক বছর থেকে সরিষা চাষ করে আসছি। এ চাষে পরিশ্রম কম ফলনও ভালো। সার ও ওষুধ নিয়মিত সময়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার ৪০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছি। মাঠের বেশিরভাগ সরিয়া ঘরে তোলা হয়ে গেছে। আমার সরিষা একটু দেরিতে রোপণ করেছিলাম যে কারণে দানায় পরিণত হতে আর কয়েকদিন সময় অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি খুব ভালো সরিষা পাব।
সদরের মঘী এলাকার অপর সরিষা চাষি রানা শেখ বলেন, সরিষার বড় শত্রু হচ্ছে জাব পোকা। এবার জাব পোকার আক্রমণ তেমন চোখে পড়েনি। যে কারণে ফলন ভালো হবে। সরিষা চাষে তেমন খরচ হয় না বললেই চলে। আশা করছি অন্য বছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলন ভালো হবে। নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করতে পারব।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, সরিষার তেলের রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। সরিষার খৈল পশুখাদ্য ও জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার হয়। সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জমিতে সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে জমির খাদ্য চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে। জেলার প্রতিটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ বিতরণের পাশাপাশি সরিষার আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক চাষিদের আমরা বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছি।