এ উপজেলায় এই প্রথম স্মার্ট-১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন আবু সাইদ। তিনি গোমতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেস্ত্রীর চর এলাকায় ৪ একর জমিতে এ টমেটো চাষ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বাহুবলি হাইব্রিড টমেটোর চাষ করেছেন একই জমিতে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে মাচায় ঝুলছে শীতকালীন সবজি টমেটো। পাহাড়ের ওপরে মাচায় সবুজ আর পাকা লাল টমেটোগুলো সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে।
.png)
২০২২ সালে বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে মেস্ত্রীর চর এলাকায় আসেন আবু সাইদ। এখানে এসে তিনি দেখলেন পাহাড়ের অনেক জমিতে তামাক চাষ করা হয়। যেখানে তামাক ছেড়ে একই জমিতে সবজি উৎপাদন করে বিপ্লব ঘটান। তাছাড়া এখানে অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে যে জমিতে কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর লক্ষে আবু সাইদ ২০ একর জমি লিজ নিয়ে ৪ একর জমিতে স্মার্ট ১২১৭ হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ শুরু করেন।
এ জমিতে তিনি পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে করে মাটির প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ঠিক থাকার পাশাপাশি আগাছা দমন, সারের সঠিক প্রয়োগ এবং পোকামাড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। জমিটি পাহাড়ের ওপরে বিধায় নিচ থেকে পর্যাপ্ত পানির সেচের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি চার একর জমিতে স্মার্ট-১২১৭ জাতের টমেটোর চারা রোপণ করেন। এ জাতের টমেটো গাছপ্রতি গড়ে ৮-১০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। একর প্রতি গড় ফলন ৪০-৪৫ টন। ফল ডিম্বাকৃতির শক্ত এবং আকর্ষণীয় লাল বর্ণের হয়। একইসঙ্গে বীজ বপণের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়।
স্মার্ট জাতের টমেটোর প্রতিটি গাছ টমেটোর ভারে নুইয়ে পড়ে। তাই গাছ নুইয়ে পড়া ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি দিতে হয়। আগাম ও সিজনাল চাষ উপযোগী ভাইরাস সহনশীল জাত এটি।
এ জমিতে ১০-১২ জন শ্রমিক স্থায়ীভাবে কাজ করার পাশাপাশি দৈনিক হিসেবেও শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। আগামীতে একই জমিতে আরো বিভিন্ন জাতের সবজির উৎপাদন করবেন বলে জানান আবু সাইদ।
তিনি জানান, টমেটোর চলমান বাজার দর হিসেবে এবার তিনি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।
আবু সাইদ বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানে বর্ষা মৌসুমে জমি তলিয়ে যায় বিধায় ফসল নষ্ট হয়। পাহাড়ের ওপর পানি জমে থাকে না বিধায় এখানে সব ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
বাগান থেকে টমেটো কিনতে আসা আমির হোসেন বলেন, এ বাগানের টমেটো অনেকটা কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় আমি ১০ কেজি টমেটো কিনেছি। আবু সাইদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পতিত জমিতে কৃষিপণ্য উৎপাদনের ফলে একসময় এ এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, আমরা কৃষি সম্পর্কিত যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কেউ কৃষি কাজে এগিয়ে এলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।