শুক্রবার প্রেস-ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মুক্তার শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঝাউকাঠি গ্রামের আজিদ শেখের ছেলে।
গত ৬ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার চর আড়কান্দিয় পাহারা দেওয়ার সময় শ্বাসরোধে গ্রাম পুলিশ সদস্য রঞ্জিত কুমার দে’কে হত্যা করা হয়।
.png)
এ ঘটনায় ফিরোজ বিশ্বাসের চুরি হওয়া ছাগল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসামি মুক্তার শেখের শ্বশুরবাড়ি চর আড়কান্দি গ্রামে। ঘটনার দিন রাতে চর আড়কান্দি গ্রাম থেকে ছাগল চুরি হয়। তিনজন ঐ ছাগল চুরি করেন। হত্যাকাণ্ডের স্থানে পোড়া মবিল ও ইজিবাইকের চাকার দাগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ছাগল চুরির স্থানেও পোড়া মবিল ও ইজিবাইকের চাকার দাগ পাওয়া যায়। এতে ছাগল চুরির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, গভীর রাতে ইজিবাইকে ছাগল নিয়ে গেলে পুলিশের কাছে ধরা পড়ার আশঙ্কা ছিল। এজন্য চর আড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশেপাশে ফাঁকা জায়গা থাকায় চোরেরা স্থানটিকে নিরাপদ ভাবে। তারা বিদ্যালয়ের পাশে ছাগল ও ইজিবাইক নিয়ে ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হন গ্রাম পুলিশ রঞ্জিত কুমার দে। তিনি ছাগল ও ইজিবাইক দেখে এগিয়ে যান। রঞ্জিতকে এ বিষয়ে কাউকে না বলার প্রস্তাব দিয়ে তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চায়। নগদ দুই হাজার টাকাও দেওয়া হয়। তবে টাকা ফিরিয়ে দেন রঞ্জন। তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দিতে চান। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রঞ্জিতের গলায় থাকা মাফলার ধরে টেনে ঝোপের পাশে রেখে দেয়। হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় পর চোরেরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে হাটে নিয়ে ছাগল বিক্রি করে তারা।