ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চারদিন পর চুরি হওয়া নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো র‌্যাব

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৭:২৬, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চারদিন পর চুরি হওয়া নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো র‌্যাব
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চুরি হওয়ার চারদিন পর তিন দিন বয়সি নবজাতক আরিয়ানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে র‌্যাব। রোববার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে দৌলতপুরের গোয়ালগ্রামের মেল্লাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নবজাতক আরিয়ানকে উদ্ধার করেন র‌্যাব সদস্যরা। 

এ সময় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি এবং হেফাজতে রাখার অভিযোগে একই গ্রামের কাতার প্রবাসী আবু হানিফের স্ত্রী পলিয়ারা খাতুন এবং পলিয়ারার মা মাহাফুজা খাতুনকে আটক করেন তারা।

গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আল্লার দর্গা এলাকার আনোয়ার বিশ্বাস মা ও শিশু হাসপালের মহিলা ওয়ার্ডে নবজাতকের নানির কোল থেকে ৩ দিনের নবজাতক আরিয়ানকে আদর করার কথা বলে কোলে তুলে নেন বোরকা পরিহিত এক নারী। পরে আরিয়ানের নানি পানি আনতে গেলে নবজাতকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি ।

Advertisement

নবজাতক শিশু আরিয়ানকে উদ্ধারের পর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-১২। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে বক্তব্য রাখেন র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক মারুফ হোসেন।

এ সময় র‌্যাব-১২ অধিনায়ক বলেন, গত বুধবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার আল্লার দর্গা এলাকার আনোয়ার বিশ্বাস মা ও শিশু হাসপালের মহিলা ওয়ার্ড থেকে নবজাতক আরিয়ান ‍চুরি হওয়ার পর থেকেই নবজাতককে উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করে র‌্যাব সদস্যরা।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন সড়কের পাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অজ্ঞাত ওই নারীর গতিবিধি লক্ষ্য করে র‌্যাব দিনরাত ধারাবাহিক কাজ করতে থাকে। পরে নিশ্চিত হয়ে রোববার রাত ৮টার দিকে চুরির ঘটনাস্থল ওই হাসপাতাল থেকে ২৫ কিলোমিটার দুরে দৌলতপুর উপজেলার গোয়াল গ্রাম মোল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুলের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি এবং হেফাজতে রাখার অভিযোগে কাতার প্রবাসী হানিফের স্ত্রী পলিয়ারা এবং পলিয়ারার মা মাহাফুজাকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বাচ্চাটিকে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই মূলত চুরি করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এবং আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এটাই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাটিকে চুরি করার সময় এই চক্র বেশ কয়েকটি যানবাহন ব্যবহার করেন। যাতে বোঝা যাচ্ছে তারা পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধভাবে এই চুরি সংগঠিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পেছনে দেশি এবং বিদেশি একটি চক্রের সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের হোতাদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে র‌্যাব।

এদিকে সকালেই শিশু আরিয়ানকে কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে আসেন আরিয়ানের মা সাফিয়া খাতুন, বাবা দিপু ইসলাম এবং নানি রহিমন খাতুন। 

চুরি যাওয়া সন্তান ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সাফিয়া খাতুন জানান, গত চারটা দিন কীভাবে কেটেছে তা বলে বর্ণনা করার মতো ভাষা নেই। 

র‌্যাব সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে আরিয়ানের বাবা দিপু ইসলাম বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে। কিন্তু কষ্ট ও লাগছে একজন নারী হয়ে এইটুকু একটা বাচ্চাকে কীভাবে চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের  কার্যালয়ে মায়ের কোলে ৭দিনের শিশু আরিয়ান। অপর ছবিতে আটক পলিয়ারা এবং তার মা মাহাফুজা খাতুন।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুষ্টিয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!