বড়বিলায় পাতিসরালি হাঁসের মিলন মেলা
দলবেঁধে ‘বড়বিলা’ বিলের পানিতে সাঁতরে বেড়াচ্ছে বাদামি রঙের এক প্রকার পাখি। যার নাম সরালি বা পাতিসরালি হাঁস। একসঙ্গে উড়তে থাকলে মনে হয় ধূসর-বাদামি ঢেউ। বগুড়ার শেরপুরে এই প্রথম কোনো বিলে এমন পাতিসরালির ঝাঁক দেখা গেল।
সরালিকে ‘পরিযায়ী’ বলে ভুল করেন কেউ কেউ। এটি পরিযায়ী পাখি নয়। শীত মৌসুমে এই জাতের পাখি দিঘি-জলাশয়ে দলবেঁধে বেড়ায়। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খেলা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় করতে থাকেন।
জেলার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ‘বড়বিলা’ নামক বিলের নতুন অতিথি এবার পাতিসরালি। বিলের ধারে দাঁড়ালে প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধন মনে মুগ্ধতা এনে দেয়। এই প্রথম এ বিলে এমন পাতিসরালির ঝাঁক দেখা গেল। পাতিসরালি ছাড়াও এই বিলে প্রায় ২০-২৫ প্রজাজির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে পাতি তিলিহাঁস, বালিহাঁস, জলপিপি, জলমূয়র, পাকড়া মাছরাঙা, পাতি মাছরাঙা, মাছরাঙা, সাপপাখি, পানকৌড়ি, শামুকখোল, শালিক, লাটোরা উল্লেখযোগ্য। এসব পাখি দেখার জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ সপরিবারে ভিড় করে থাকেন।
এই বিলের আয়তন বর্ষা মৌসুমে অনেক বেশি থাকলেও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় ১৫ একরের মতো থাকে এবং পানির গভীরতা ৩-৫ ফিট পর্যন্ত থাকে। বিকেল হলেই এখন পাখি দেখতে ভিড় করেন অনেকে। এছাড়াও মাছ ধরতে দেখা যায় দুই-একজনকে। বিলটিতে গত বছরের পর এ বছর জুন মাসে তুলনামূলক মা পাখি সংখ্যায় অনেক বেশি এসেছে এবং দুই মাস আগে থেকে বংশ বিস্তার শুরু করেছে। এখানে বর্তমানে পাখির সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার।
বিলটিতে পাখিসহ বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করছে পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা শেরপুর বগুড়া। এই বিলে পাতিসরালি ঝাঁক বেঁধে গত বছর থেকে আসলেও তাদের নিরাপত্তায় শুধু স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠনটি কাজ করছে।
আগত মুমতাহিনা সুলতানা আশা ও শ্যামলী আকতার সাদিয়া বলেন, আমরা গত বছর এ বিলের পাখি আসার সংবাদ পেয়ে শীত মৌসুমে ২-৩ বার করে আছি। পরিবারের সবাই নিয়ে এখানে এসব পাখিদের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে নানা প্রজাতির পাখি দেখে মন ভরে যায়।
রেজাদুল হক রেজা বলেন, বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এ বিল। সেই শহর থেকে এসেছি এ বিলের নানা প্রজাতির পাখি দেখার জন্য। এ বিলের ধারে দাঁড়ালে প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধন মনে মুগ্ধতা এনে দেয়। এখানকার পাখিদের কলকাকলি যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় সাগর জানান, বিলটিতে গত সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় চলতি মাসে মা পাখি সংখ্যায় অনেক বেশি এসেছে এবং দুই মাস আগে থেকে বংশ বিস্তার শুরু করেছে। এখানে বর্তমানে পাখির সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার। আমরা কিছু লিফলেট ও ব্যানার লাগিয়ে লোকজনকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
শেরপুরের ইউএনও মো. ময়নুল ইসলাম জানান, এ বিলটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। সেজন্য সরকারিভাবে কিছু করার সম্ভব হয়ে উঠছে না। তারপরও শীত মৌসুমে এসব পাখিদের অবাধ বিচরণ ও আবাসস্থল করার জন্য জমির মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে আগত পাখিদের স্বাভাবিক বিচরণ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া আছে।