পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকবে। সে পর্যন্ত কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেলের রুম বুক হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেলে নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট রাখার নিয়ম থাকলেও কোনো হোটেলেই তা নেই। তবে অফ সিজনে ডিসকাউন্ট থাকলেও ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে মনোপলি ব্যবসা করছেন হোটেল মালিকরা।
.png)
সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটক ঢাকা ধানমন্ডির ব্যাংকার হাসনাত আবদুল হালিম বলেন, সপরিবারে কক্সবাজার এসেছি। উদ্দেশ্য ছিল এক সপ্তাহ থাকবো। কিন্তু হোটেল ভাড়া, খাবার খরচ, যানবাহন ভাড়াসহ জিনিসপত্রের যে দাম- তাতে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন অসংখ্য পর্যটক।
বরিশাল থেকে আসা শারমিন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সাতজনের টিম নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসেছি। কোথাও রুম নেই। হোটেলে রুম না পেয়ে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়েছি। তিনের জন্য তিনটি রুমের ভাড়া ১৭ হাজার টাকা।
নোমান শরীফ শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা থেকে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেড়াতে এসেছি। হোটেলে রুম না পেয়ে ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটি কটেজে যাই। ভাড়া আকাশচুম্বী। এছাড়া একদিনের জন্য ভাড়া দেবেন না বলেও জানান তারা। বাধ্য অন্য জায়গায় দেড় হাজার টাকার রুম তিন হাজার টাকা করে ভাড়া নিয়েছি। পর্যটক বেশি আসায় হোটেল ব্যবসায়ীরা এমন আচারণ করছে।
ব্যবসায়ীদের এমন আচরণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা।
হোটেল রয়েল বিচ রিসোর্টের মালিক জয়নাল আবেদীন জানান, তার হোটেলে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কোনো কোনো হোটেলে রুম ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে অফ সিজনে ডিসকাউন্ট দিলেও এখন দিতে পারছি না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার গেস্ট হাউস রেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, সব হোটেলের রুম বৃহস্পতিবার থেকে বুকিং হয়ে গেছে। তাই পর্যটকরা রুম পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটি তার জানা নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যবয়াসী বেশি ভাড়া নিতে পারেন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা জানান, গত মাসের তুলনায় এ মাসে পর্যটক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরে অন্তত শত কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা জানান, হোটেলের রুম ভাড়া বেশি নেয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পর্যটক হয়রানি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এ পর্যন্ত কোনো পর্যটক মৌখিক কিংবা লিখিত অভিযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।