রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনজুর রহমানের দুই বছরের মেয়ে মুনতাহা মারিশা ও চার বছরের মুফতাউল মাশিয়া কয়েক দিনের ব্যবধানে একই লক্ষণ নিয়ে মারা যায়। মনজুর রহমান ও তার স্ত্রীও এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আইসোলেশনে ভর্তি আছেন।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, মারা যাওয়া দুই শিশুর হঠাৎ জ্বর, বমি ও শরীরের র্যাশের লক্ষণ ছিল। তবে আইসোলেশনে থাকা তাদের বাবা-মায়ের এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
.png)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রতে (আইসিইউ) গত শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে মারা যায় বড় মেয়ে মাশিয়া। আর গত বুধবার একই লক্ষণ নিয়ে মারা যায় ছোট মেয়ে মারিশা।
শিশুদের মা পলি খাতুন জানিয়েছেন, গৃহকর্মী গাছ থেকে বরই কুড়িয়ে এনে দুই মেয়েকে খেতে দিয়েছিলেন। না ধুয়েই ঐ বরই খেয়েছিল মারিশা আর মাশিয়া। সেদিন তারা ভালোই ছিল। পরদিন থেকেই অসুস্থ হয়ে যায় তারা।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম শামীম আহম্মদ বলেন, মারা যাওয়া শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের করোনা, নিপাহ ভাইরাস ও ডেঙ্গু টেস্ট করেছি। সবগুলোই নেগেটিভ এসেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আগে থেকেই নিপাহ সংক্রমণ রোধে কাঁচা খেজুর খাওয়া রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। আর ঐ দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিপাহ ধারণা করা হচ্ছিল। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। এটা নিয়ে আইইডিসিআর কাজ করছে। তবে খেজুর রস যেন কেউ না খাই সে বিষয়ে সর্তক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ফল ভালো করে পরিষ্কার করে খাওয়ার বিষয়ে সর্তক করা হচ্ছে।