রোববার লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া এলাকায় পদ্মার বুকে জেগে থাকা (দামুস) নদীর হাঁটু পানিতে হয়ে গেল পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব।
এ সময় উপজেলার বিলমাড়ীয়া, হাজিরহাট, চাঁদপুর, মোহরকয়া, মোমিনপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক মৎস্যপ্রেমী ও জেলেরা পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসবে অংশ নেন। এতে পদ্মা নদীর দুই পাশে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দল বেঁধে পদ্মার (দামুসে) হাঁটু পানিতে সৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়েন। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ। এ সময় উৎসুক গ্রামবাসীও নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করেন এ উৎসব।
.png)
মাছ ধরা উৎসবে অংশ নেয়া চাঁদপুরের কৃষক মমিনুল হক বলেন, শীত কালের শেষের দিকে প্রতি বছরই মাছ ধরার উৎসব হয়ে থাকে। এবারে শীত একটু বেশি হওয়ায় মাছের পরিমাণ কম। তবে মাছ খাওয়ার চেয়ে ধরার আনন্দটাই বেশি। সেজন্য সবাই মিলে ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছি।
বিলমাড়ীয়া এলাকার সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতি বছরে নদীর পানি কমে গেলে সবাই মিলে পলো দিয়ে মাছ ধরি। তখন আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাছ ধরতে আসেন। আমরা পাঁচজন এসেছি। প্রতি বছর পদ্মা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরতে যাই। অনেক আনন্দে সবাই মাছ ধরি।
হাজির হাট থেকে আসা মাছ শিকাড়ি আসলাম শেখ বলেন, প্রতিবছর আমরা খাল, বিল ও নদ নদীর পানি কোমর পর্যন্ত পৌঁছালে পলো দিয়ে মাছ ধরা শুরু হয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয়ে মাছ ধরতে যাই। একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। শখের কারণে সবাই একসঙ্গে মাছ ধরতে আসি।