এর আগে গত বছর তিনি প্রথমবারের মতো মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন চিয়া বীজ। সেবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এ বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে ১৪ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন চিয়া বীজ। চিয়া বীজ চাষে খরচের তুলনায় লাভ অনেক বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে সদর উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান, মহম্মদপুর উপজেলার কৃষক সম্পদ বাগদীর মতো অনেকেই।
নানান ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ চিয়া বীজ এর বৈজ্ঞানিক নাম সালভিয়া হিসপানিকা। চিয়া বীজকে বলা হয় সুপারফুড। চিয়া বীজে রয়েছে শর্করা, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাসসহ একাধিক খনিজ পদার্থ। এছাড়াও একাধিক ভিটামিন ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন এই চিয়া বীজে। ফলে শরীরে পাচনতন্ত্র ও মেটাবলিজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী চিয়া বীজ। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও সহায়ক। চিয়া বীজ খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের সমস্যা কমে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। শরীরে পানির চাহিদা পূরণ থেকে ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে চিয়া বীজের গুরুত্ব অনেক।
.png)
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চিয়া বীজ মধ্য আমেরিকার একটি উদ্ভিদ। পুদিনার একটি প্রজাতি। বিভিন্ন পোষক পদার্থের উপস্থিতির জন্য এটিকে সুপারফুড বলা হয়ে থাকে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চিয়া বীজ বপন করতে হয়। ফলন ঘরে তোলা যায় মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে।
চিয়া বীজে দুইটা সেচ দিতে হয়। বীজ বোনার সময় একটা, অন্যটা ৪০ দিন পর। এর জীবনকল ১০৫ দিন। চিয়া বীজ উৎপাদনে জৈবসারের ব্যবহার বেশি করতে হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান বলেন, চিয়া বীজ মানব শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাজারে এই ফসলের মূল্য অনেক বেশি। গত বছর মাগুরাতে প্রথমবারের মতো ৩৩ শতাংশ জমিতে চিয়া বীজের চাষ করেছিলাম, এবার ১৪ বিঘা জমিতে চিয়া বীজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। আশা করছি সব মিলে ৭০ মণ মতো চিয়া বীজ পাব। ১৪ বিঘা জমিতে চিয়া বীজ চাষ করতে ৮৫ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। বতর্মানে বাজারে প্রতি মণ চিয়া বীজ ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিয়া বীজ বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে ভালো লাভবান হবো। উৎপাদিত চিয়া বীজ নিজেও খাচ্ছি এবং বিক্রি করছি।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চিয়া বীজ হলো সুপারফুড। মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া চিয়া বীজ চাষে অত্যন্ত উপযোগী। যে কারণে চিয়া বীজ উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মাগুরা সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান ও মহম্মদপুর উপজেলার কৃষক সম্পদ বাগদী চিয়া বীজ চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভবান হয়েছে। চিয়া বীজ চাষে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে। জেলায় আগামীতে আরো বেশি কৃষককে চিয়া বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।