ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবির থেকে বহিষ্কার হন রাকসু জিএস আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবির থেকে বহিষ্কার হন রাকসু জিএস আম্মার
সালাহউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সাথীপদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পর সালাউদ্দিন আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের দেওয়া এক চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

Advertisement

চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তসরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে উত্থাপিত অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, সালাউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের সালাউদ্দিন আম্মারের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতেও সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার কথাও বলা হয়।

চিঠি অনুযায়ী, এসব অভিযোগ ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শাখা ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সালাউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।

রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এবার সালাউদ্দিন আম্মারের শিবিরের সাথীপদ বাতিলের তথ্য সামনে আসায় ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল নিয়ে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাবি/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!