ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩২, ৯ মার্চ ২০২৪
সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
দেবহাটা থানা। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার দেবহাটায় সাইমা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী তানজিন ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার তানজিন ইসলাম দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে। এছাড়া নিহত সাইমা খাতুনের বাবার বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়ার মৌখালি গ্রামে। 
 
জানা গেছে, শ্বশুর আব্দুস সবুর পরিচালিত পাররুলয়া জামিয়া ইসলামিয়া ফয়জুল উলুম মহিলা মাদরাসায় পড়াশুনাকালীন ৬-৭ মাস আগে পারিবারিকভাবে সাইমা ও তানজিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পরও সাইমা খাতুন পড়াশুনা অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি মাত্র ৮ মাসে কোরআন শরীফ মুখস্ত করে কোরআনে হাফেজা হয়েছিলেন বলে দাবি স্বজনদের।  

Advertisement

সাইমার মা রাবেয়া খাতুন জানান, রাত ১২টার দিকে মেয়ে সাইমা খাতুন গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে বেয়াই আব্দুস সবুর তাদেরকে ফোন করেন। ঘণ্টাখানেক পর তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে সাইমা খাতুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। হঠাৎ অসুস্থতার কারণে সাইমার মৃত্যু হয়েছে বলে সেসময় তাদেরকে জানান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জামাতা তানজিন তার মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানতে পারেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এ দিকে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দিলে রাত দেড়টার দিকে দেবহাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইমার লাশ উদ্ধারসহ তার স্বামী তানজিনকে গ্রেফতার করে। পাশাপাশি ওই রাতে সাইমা ও তানজিনের বাড়িতে অবস্থানরত জিন-ভূতের ঝাড়-ফুক করা আব্দুস সেলিম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

সাইমার শ্বশুর আব্দুস সবুর জানান, জিনের আছর থাকায় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন তার ছেলে তানজিন ইসলাম। মাসে দু-এক বার উন্মাদ হয়ে উঠতো সে। তখন কবিরাজ দিয়ে ঝাড়-ফুক করলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যেত তানজিন। শুক্রবার দুপুরে তানজিন আবারো উন্মাদ হয়ে উঠলে ঝাড়-ফুকের জন্য আশাশুনি থেকে কবিরাজ আব্দুস সেলিমকে বাড়িতে ডাকেন তিনি। স্বাভাবিক হওয়ার পর রাতের খাবার খেলে ছেলে তানজিন ও পুত্রবধূ সাইমা একত্রে ঘুমাতে গিয়েছিল। আর গুণিন আব্দুস সালামকেও রাতে ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল। রাত ১২টার দিকে ছেলে তানজিনের ডাকে ঘুম থেকে উঠে পুত্রবধূ সাইমাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে পুত্রবধূ সাইমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বেয়াইয়ের বাড়িতে ফোন করেন।

দেবহাটা থানার ওসি শেখ মাহমুদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী সাইমা খাতুনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তানজিন। সাইমার গলা ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সাইমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!