বুধবার রাত সোয়া ৯টায় গ্রেফতার করে র্যাব-১। বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউপির বাঁশবাড়ী গ্রামের প্রয়াত কাশেম আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম শহিদ এবং তার ছেলে এছানুল হক। রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আব্দুল্লাহপুর আটিপাড়া সুজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় ।
.png)
র্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহফুজুর রহমান জানান, শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ভিকটিম গাজীপুর ইউপির বাঁশবাড়ী গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে আব্দুল্লাহর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকানের তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি শহিদুল ইসলামের মনে প্রচণ্ড ক্রোধ এবং প্রতিশোধ সৃষ্টি করে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ভিকটিম আব্দুল্লাহ মোটরসাইকেলে বাঁশবাড়ী বাজারের পূর্ব পাশে স্থানীয় মেধা বিকাশ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যায়। পরে অনুষ্ঠান স্থলের পশ্চিম পাশে সালামের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিল। এ সময় শহিদুল ইসলাম আব্দুল্লাহর সঙ্গে হাতাহাতি ও মারামারি করে।
উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাদেরকে মীমাংসা করে দিলে আব্দুল্লাহ স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে চলে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় শহিদুল ইসলামের নির্দেশে রফিক এবং নুরুল ইসলাম নূরু আব্দুল্লাহকে মাঠ থেকে ডেকে বাঁশবাড়ী বাজারের পূর্বপাশে সুরুজ মিয়ার টিনসেড ভবনের পেছনে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে আসে। পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ঘটনাস্থলে শহিদুল ইসলাম তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে ভিকটিমের বাম পাঁজরে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার ছেলে এছানুল হক আব্দুল্লাহও বাম পাঁজরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এসময় অন্যান্য আসামিরা ভিকটিমের শরীরে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আনন্দ উল্লাস করে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানার ওসি শাহ্ জামান জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজনকে দুপুরে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। শুক্রবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।