* ২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ
* নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ
* মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ
* বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপ
* দেখা মেলে না মশককর্মীদের
* ওষুধ ছিটানোর বেশিরভাগ মেশিনই নষ্ট
* যা বলছে কর্তৃপক্ষ
২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ:
.png)
জানা গেছে, মশা নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর ২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। গত বছরও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল। তবুও মশা তাড়াতে ব্যর্থ সিটি কর্পোরেশন। কোনোভাবেই মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলছে না।
নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ:
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য শাখা জানায়, গত বছরের নভেম্বরে প্রতি ওয়ার্ডে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়েছিল। এবারও ওষুধ ছিটানো হবে। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে সারা বছর মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ:
এদিকে মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে মশার উৎপাত আরো বাড়বে। মশা নিধনে এখন থেকেই সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। না হলে মশার কামড়ে আক্রান্তদের ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়াসহ নানা জটিল রোগে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপ:
নগরীর বেশকিছু এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মহানগরীর প্রায় সব এলাকায় মশার উৎপাত বেড়েছে। এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে মশা নেই। নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়ই ডোবা, নালা ও নির্মাণাধীন ভবনের রিজার্ভারে দলবেঁধে মশা উড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপে মশার বংশ বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে নগরীর বর্ধিত অংশের প্রায় সব ওয়ার্ডেই মশার উৎপাত বেশি।
দেখা মেলে না মশককর্মীদের:
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, সিটি কর্পোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও উদ্যোগের কথা বিভিন্ন সময় শোনা গেলেও বাস্তবে কর্মীদের দেখা মেলে না। অনেকে মশার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে বাসা-বাড়ির জানালা ও বারান্দায় নেট লাগিয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন।
আখালিয়া দুসকি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন কয়েক দিন আগে এলাকায় মশার ওষুধ ছিটিয়ে গেছে। তবুও মশা মরেনি। দিনেও মশারি টানাতে হচ্ছে।
সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা মিজান আহমদ বলেন, মশার নির্যাতনে আমরা অতিষ্ঠ। দিনের আলোয় মশা কিছুটা কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর ঝাঁকে ঝাঁকে মশা উড়তে দেখা যায়। এসব মশা সাইজে খুব বড়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শরীরে বসে কামড় দিয়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পর খোলা জায়গায় দাঁড়ানোই যায় না।
কলেজছাত্রী ফারিহা তাবাসসুম বলেন, সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় পড়ার টেবিলে বসা যাচ্ছে না। কয়েল বা ওষুধ- কোনো কিছুতেই মশা তাড়ানো যাচ্ছে না।
বেসরকারি একটি ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন নগরের খোজারখলা এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কর্মস্থল থেকে শুরু করে বাসা- সর্বত্র মশার উপদ্রব। অস্থির অবস্থা। মশারি, কয়েল কিংবা ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়েও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
ওষুধ ছিটানোর বেশিরভাগ মেশিনই নষ্ট:
সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার তথ্যমতে, মশার ওষুধ ছিটানোর প্রায় ২৫০টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে আছে হস্তচালিত স্প্রেয়ার ও ফগার মেশিন। কিন্তু অর্ধেক মেশিনই নষ্ট। তথ্য অনুযায়ী হস্তচালিত স্প্রেয়ার মেশিন আছে ২৩০টি। এর মধ্যে নষ্ট ১৫০টি মেশিন। আর ফগার মেশিন সচল আছে মাত্র ১৪টি।
যা বলছে কর্তৃপক্ষ:
সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তারা বলছেন, বাসাবাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদের বাগান, ভবনের চৌবাচ্চা, এসি-ফ্রিজ থেকে জমা পানিতে মশার বংশ বিস্তার ঘটছে বেশি। ঐসব স্থানে মশককর্মীরা যেতে পারে না। কর্মীরা নিয়মিত ও সঠিকভাবে মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। নগরবাসী সচেতন হলে মশা নিধন আরো অনেক সহজ হবে।
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে আরো ৮০টি ফগার মেশিন কেনার কথা জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জামও নেই। মশক নিধনে আমরা যে মেশিনগুলো ব্যবহার করছি সেগুলো খুবই নিম্নমানের। আগে প্রতি তিন মাস পরপর ওষুধ ছিটানো হতো। আর বর্ষা মৌসুমে অভিযান চালানো হতো। এখন আমরা এ শাখায় স্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেব। এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে প্রতিদিনই সব ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে এখন থেকে সারা বছর মশক নিধনে নানা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন থেকে সারা বছর নগরে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। একইসঙ্গে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।