মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মহেশপুর উপজেলার নলপাড়া গ্রামের আলী কদর মন্ডলের মেয়ে রওশনারা বেগম ওরফে বুড়ি বেগম, ও ছেলে ছানোয়ার হোসেন ও রওশনারার ছেলে বাপ্পী। সম্প্রতি তারা ঝিনাইদহ শহরের ওয়াপদাহ এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
আদালতের রায়ের বিবরণে জানা যায়, পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামিরা ঝিনাইদহ সদর থানার সোনারদাইড় গ্রামের রহিমা বেগমের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। তারা বিভিন্ন সময় বাদীর ১৩ বছরের কন্যাকে ভালো বেতনে সেলাই মেশিনের কাজ পাইয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেন। ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় কয়েকজনের সামনে তাদের কাছে সেলাই মেশিনে চাকরির জন্য মেয়েকে হস্তান্তর করেন রহিমা বেগম। তিন মাস ওই মেয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। এরপর আসামিদের কাছে মেয়েকে ফেরত চাইলে তারা নানা কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
.png)
২০১২ সালের ১৩ মে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করেন। কোথায় আছে তাও জানাতে অস্বীকার করেন। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজসে তার মেয়েকে দেশে অথবা বিদেশে পাচার করেন বলে জানতে পারেন। অবশেষে তার মা রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ২০১২ সালের ১৩ মে সদর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি এজাহার দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ৩০ জুলাই মামলায় পুলিশ আদালতে চাজশির্ট দাখিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একইসঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বজলুর রহমান জানান, ভিকটিম ভারতের একটি জায়গায় আড়াই বছর নিরাপদ হেফাজতে ছিল। পরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। মামলার যে রায় হয়েছে তাতে আমরা খুশি।