জমিজমা লিখে দেওয়ার পরও ছেলে ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাননি ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ভরণপোষণের জন্য সন্তানের কাছে টাকা চাইলে তারা বৃদ্ধা মাকে বেধড়ক মারধর করেন।
বুধবার এমন অসহায় মায়ের করুণ চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে। ওই অসহায় বৃদ্ধা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউপির বড় ধর্মপুর এলাকার গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মর্জিনা বেগম।
.png)
জানা গেছে, একমাত্র ছেলে মঞ্জুরুল হক ও পুত্রবধূ জোসনা আক্তার ও নাতিদের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। স্বামীর রেখে যাওয়া জমি একমাত্র ছেলে মঞ্জুরুলের নামে লিখে দেন। এরপর থেকে নানা বিষয় নিয়ে ছেলে মঞ্জুরুল ও তার স্ত্রী জোসনা প্রায়ই মাকে মারধর করতেন।
বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা জানার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মায়ের ভরণপোষণ দেবে সালিসের মাধ্যমে সেটাও ঠিক করে দেওয়া হয়। কদিন যেতে না যেতে ছেলে বিদেশ চলে গেলে পুত্রবধূ শুরু করে আবার নির্যাতন।
মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করিনি। ছেলের সুখের জন্য পাড়ি জমাই প্রবাসে। পরে সেই প্রবাসের জমানো টাকা দিয়ে সন্তানকে বিদেশে পাঠাই। কিন্তু তারপরেও ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিদের মন পাইনি। এখন মানুষের ঘরে ঘরে হাত পেতে ভিক্ষা চেয়ে খেতে হয়।
এখন মর্জিনার শেষ ইচ্ছে তার কেনা ভিটে বাড়ির ৬ শতক জমি বিক্রি করে কিছু টাকা পেলে তা দিয়ে ছেলের থেকে দূরে কোথাও গিয়ে বাকি জীবন এককভাবে পার করবে। এখন এই জমিটুকুও বিক্রি করতে পারছেন না। ওখানে গেলেই ছেলে বিদেশ থেকে হুমকি দেয়, পুত্রবধূ তার বাড়ির লোকজন দিয়ে ধাওয়া করে। এলাকায় দেখতে পেলে নাকি হত্যা করে ফেলবে!
এ অবস্থায় তিনি আসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানমের কার্যালয়ে। নির্বাহী অফিসার এসব করুণ কথা শুনে বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমের পাশে দাঁড়ান। নির্বাহী অফিসার তাকে সার্বিক সহযাগিতা করবেন বলে আশ্বস্থ করেন।
মর্জিনা বেগমের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি দু’চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই পোলা। ওরে আমার নামে যতখানি জমিজমা ছিল সবই লেইখা দিছি। ও ছাড়া আমার আর কেউ নেই। ও যখন দেশে ছিল তখন সে আমাকে মারধর করতো। এখন তার বউও আমাকে মারধর করে। আমি এখন কোথায় যাব। তারা আমাকে পেলে নাকি মেরে ফেলবে। এখন আমার আর কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমার সন্তান থেকেও আজ নেই। এমন সন্তানের বিচার একদিন আল্লাহ্ করবে।’
বারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম বলেন, ছেলে তার মাকে মারধর করেছে এমন কথা শুনার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিস হয়েছে। একমাত্র ছেলে ও তার স্ত্রী এভাবে অত্যাচার করবে, এটা মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, ওই মা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে আমরা তাকে সহযোগিতা করার আশ্বস্ত করেছি।