ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এখনো নজর কাড়ে সেই পুরোনো ‘তাজ মসজিদ’

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০০:৩৯, ২২ মার্চ ২০২৪
এখনো নজর কাড়ে সেই পুরোনো ‘তাজ মসজিদ’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন তাজ মসজিদ। যেটি অনেকের কাছে মসজিদ-ই-সিরাজ-উদ-দৌলা বা চন্দনপুরা বড় মসজিদ নামেও পরিচিতি। নগরের চকবাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে অবস্থিত এ মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। নানা রঙ, লতা-পাতার নকশা আর কারুকাজে স্থাপনার প্রতিটি অংশে ফুটিয়ে তোলা সৌন্দর্য নজর কাড়ে যে কারো।

জানা যায়, ১৮৭০ সালে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদ দিয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল হামিদ মাস্টার। সে সময়ও মাটির দেয়ালগুলো ছিল কারুকাজে ভরপুর। পরে ১৯৪৬ সালে মসজিদটির সংস্কার কাজে হাত দেন আব্দুল হামিদ মাস্টারের বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ। পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে ভারতের কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নির্মাণ সামগ্রী এনে ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তোলা হয়।

ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ রয়েছে এ মসজিদে। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য রয়েছে সিঁড়ি। এসব গম্বুজ ও সিঁড়িতেই যেন ফুটে উঠেছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবীর নাম।

Advertisement

যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন প্রায় চারতলা সমান উঁচু মিনারে ওঠে দেওয়া হতো আজান। এমন দুটি মিনার এখনো রয়েছে মসজিদটিতে। এছাড়া চারপাশের দেয়ালগুলোতে রয়েছে ভেন্টিলেশন পদ্ধতি। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢোকে আলো। আলোর ঝরণাধারায় ঝলমল করে মসজিদের ভেতরের অংশ। থাকে বাতাসের কোমল পরশও।

একই নকশায় নগরের কোতোয়ালির মোড় এলাকায় আরো একটি মসজিদ তৈরি করেন আবু সৈয়দ দোভাষ। যেটি এ মসজিদের চেয়ে আকারে ছোট। ফলে এটিকে চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামে অভিহিত করা হয়।

চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে দেড়শ’বছরের পুরোনো এ মসজিদের ছবিও ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। ফলে মসজিদটি এক নজর দেখতে চলে আসেন দেশ-বিদেশি পর্যটকরা।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, ১৯৫০ সালে আবু সৈয়দ দোভাষ মসজিদটির পুননির্মাণ কাজ শেষ করেন। এখনো প্রতি পাঁচ বছরে একবার মসজিদটিকে রাঙানো হয়। একবার রাঙাতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে চার মাস। মসজিদের বড় গম্বুজটির ওজন প্রায় ১৩ মণ। যেটি রুপার তৈরি। সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রঙে গম্বুজটিকে রাঙানো হয়। 

সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, চন্দনপুরা বড় মসজিদ শুধু চট্টগ্রামে নয়, দেশ-বিদেশের অনেকের কাছে এক নামে পরিচিত। দেড়শ’বছরের পুরোনো এ মসজিদটিকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ। প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক মানুষ এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার দিনে অন্তত তিন হাজার মানুষের সমাগম হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!