রোববার (২৪ মার্চ) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিরল এ অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সমরা মুন্ডা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর মির্তিঙ্গা চা-বাগান এলাকার ধন মুন্ডার ছেলে। সমরা মুন্ডা পেশায় একজন জেলে।
চিকিৎসরা জানিয়েছেন, জীবন্ত কুঁচিয়া সমরা মুন্ডার পেটের ভেতরে ছিদ্র করে ফেলেছিলো। যে কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে ছিলেন রোগী। এ ধরনের ঘটনা বিরল ও অবিশ্বাস্য বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
.png)
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৩ মার্চ) নিজ এলাকায় হাওরে মাছ ধরতে যান সমরা মুন্ডা। দুই হাতে দুটি কুঁচিয়া থাকা অবস্থায় তিনি কাদা মাটিতে আটকে পড়েন। এ সময় হাতে থাকা একটি কুঁচিয়া তার প্যান্টের ভেতরে ঢুকে যায়। আরেকটি কাদায় পড়ে। তখন তিনি অনুভব করেন তার পায়ুপথে কিছু ঢুকছে। তবে সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বাড়িতে চলে যান। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর তিনি পেটে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে পেটব্যথা প্রকট আকার ধারণ করায় তিনি স্থানীয় কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানেও কোনো সমাধান না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
রোববার বিকেলে ওসমানী হাসপাতালে হাজির হন সমরা মুন্ডা। এখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার তলপেটে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ এর প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী জানে আলমের নেতৃত্বে চারজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকরা সমরা মুন্ডার পেটের ভেতরে একটি জীবন্ত কুঁচিয়া দেখতে পান। পরে সফলভাবে জীবন্ত অবস্থায় সেটি বের করে নিয়ে আসেন।
দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অস্ত্রোপচারে অংশ নেন হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদুল ইসলাম ও ডা. তৌফিক আজিজ শাকুর।
এ বিষয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এটি একটি বিরল ঘটনা। ওসমানী হাসপাতালের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। আমাদের চিকিৎসকরা দক্ষতার সঙ্গে পেটের ভেতর থেকে ২৫ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত কুঁচিয়া বের করে নিয়ে আসেন।