৫ হাজারের বাতি রেল কিনলো ২৭ হাজারে!
যে বাতির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, সেটিই ২৭ হাজার টাকায় কিনেছে রেলওয়ে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে উঠে এসেছে এমনই অনিয়মের তথ্য।
বৃহস্পতিবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এ অনিয়মের তথ্য পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক।
তিনি বলেন, ট্রাক সাপ্লাই কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে লিফটিং জ্যাক, ড্রিলিং মেশিন এবং কাটিং জ্যাক ক্রয় সংক্রান্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে দুদক। এতে দেখা যায়- এ পণ্যগুলোর প্রাক্কলিত দর এক কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখানে এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার অধিক ব্যয়ে পণ্যগুলো কেনা হয়, যা পিপিপি এবং পিপিআরের সুস্পষ্ট লংঘন বলছে দুদক। মূলত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে একই ঠিকানায় নিবন্ধিত দুটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে তাদের মধ্যে একটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। যা প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়।
.png)
এনামুল হক আরো বলেন, বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটি কিসের ওপর ভিত্তি করে পণ্যগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করেছে, সে সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক প্রকোশলীর কার্যালয় থেকে ৯০টি এলইডি লাইট এবং এলইডি ল্যাম্প কেনার তথ্য সংগ্রহ করে দুদক টিম। সেগুলোর ক্রয় সংক্রান্ত ডকুমেন্টস সংগ্রহ করার জন্য জন্য সিওএস এর দফতরে যায়। সেখান থেকে ডকুমেন্টস সংগ্রহ পর্যালোচনা করে দুদক টিম দেখে- প্রতিটি এলইডি লাইট ২৭ হাজার ৭০০ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। যা অসংগতিপূর্ণ বলছে দুদক।
একই টিম পরে পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ও জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে অবস্থিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আরএ্যা-আই এর মেরামতকৃত কক্ষ পরিদর্শন করেন। ওয়াকিটকি ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।