ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অপরিপক্ব তরমুজে বাজার সয়লাব 

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি)
প্রকাশিত: ১৬:১৮, ৩০ মার্চ ২০২৪
অপরিপক্ব তরমুজে বাজার সয়লাব 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিভিন্ন জাতের অপরিপক্ব তরমুজে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট তরমুজ বাজারে থাকলেও তার বেশিরভাগই অপরিপক্ক। 

গরমের মধ্যে রোজায় রসালো ফলটির চাহিদা ও দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে এমনটা মনে করে আড়তে অপরিপক্ব তরমুজ সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। কম দামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব অপরিপক্ব তরমুজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন আড়তদাররা। এতে ব্যবসায়ীরা লাভ গুনে। আর বাড়ি নিয়ে কাটার পর লালের বদলে তরমুজের ভেতরের রং সাদা দেখে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা।

তরমুজ কাটার পর ভেতরের অংশে টকটকে  লাল রং দেখা গেলেও এখনো পুরোপুরি  মিষ্টি স্বাদ আসেনি। তাছাড়া অনেক তরমুজের অংশ কাটলে লাল-সাদা বর্ণের দেখা মিলে। রমজান উপলক্ষে নিতান্তই বেশি মুনাফার আশায় কৃষক এমনটা করছেন বলে জানান অনেকে। ফলে এসব অপরিপক্ব তরমুজের দাম কম হলেও কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। তাছাড়া অপরিপক্ক হওয়ার কারণে অনেকে তরমুজ কিনছেন না। ফলে দাম কম বলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তরমুজ ব্যবসায়ীদের। 

Advertisement

অপরিপক্ব তরমুজে বাজার সয়লাব।মাটিরাঙ্গা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা তরমুজ নিয়ে বসছেন বিক্রি করার জন্য। তরমুজের স্তুপ থেকে বাছাই করে ভেতরে লাল রং হওয়া দেখে একটি তরমুজ কেটে দেখিয়ে রেখে প্রতারণায় জানান দেন এ তরমুজগুলো ভালো মানের। আর হুজুগে লোকজন দাম কম পেয়ে কিনে প্রতারিত হন। 

মাটিরাঙ্গায় তরমুজ চাষ না হবার কারণে ফেনী, নিমসারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তদার থেকে এসব তরমুজ কিনে আনেন তারা। 

আব্দুর রহিম বলেন, ইফতারিতে তৃষ্ণা মিটাতে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনেছিলাম। বাড়ি নিয়ে গিয়ে কেটে দেখি ভেতরের অংশ লাল থাকলেও পানসে। তাছাড়া তরমুজের বিচিগুলোও অপরিপক্ব। 

তরমুজ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, দাম কম হলেও তরমুজ কিনছেন না অনেকে। তরমুজ দ্রুত পচনশীল ফল বিক্রি না হলে আমাকে লোকসান গুনতে হবে। 

অপর ব্যবসায়ী আসাদ আলী বলেন, আমি নিমসার থেকে তরমুজ কিনে এনে মাটিরাঙ্গায় বিক্রি করি। এ বছর তরমুজের দাম কম। তবে অপরিপক্ক হওয়ার কারণে তরমুজ কিনছেন না অনেকে। 

তরমুজ ক্রেতা ফরিদ উদ্দিন বলেন, অপরিপক্ক তরমুজ বিক্রি একদম অন্যায়। বাজার মনিটরিং করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করেন তিনি। 

তরমুজের গায়ে সাদা দাগ দেখে তরমুজ কিনার পরামর্শ দিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী জানান, চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিন পর তরমুজ পরিপক্ব হয়। এর আগে তরমুজ তোলা হলে সেগুলো পুরোপুরি পাকে না। ভেতরে লাল সাদা থাকে। তাছাড়া তরমুজ কেনার সময় চাপ দিয়ে দেখতে হয় ‘ঢ্যাপ ঢ্যাপ’ শব্দ হয় কী না। যেসব তরমুজের খোসার ওপর মসৃণ ও রং উজ্জল থাকে সেগুলো সাধারণত পাকা হয় না। আর যেসব তরমুজ গোলাকৃতি, সেগুলো বেশি মিষ্টি।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: খাগড়াছড়ি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!