ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ট্রেনের অনলাইন টিকিটে ডিজিটাল জালিয়াতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৭, ১ এপ্রিল ২০২৪
ট্রেনের অনলাইন টিকিটে ডিজিটাল জালিয়াতি
ট্রেনের অনলাইন টিকিটে ডিজিটাল জালিয়াতি -ফাইল ছবি

টিকিট কালোবাজারি রোধ ও মানুষের ভোগান্তি লাঘব করতে অনলাইনে ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির সুফল আশা করা হলেও তা যেন ঠেকাতে তৎপর কালোবাজারিরা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে বেশকিছু টিকিটসহ এক কালোবাজারিকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে টিকিট নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আরিয়ান হোসাইন নামের এক টিকিট কালোবাজারিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টিকিটের সূত্র ধরে একটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করে কাজ শুরু করা হয়, যে নম্বরটি ব্যবহার করে গত এক বছরে ১৮৪ বার কাটা হয়েছে ট্রেনের টিকিট। নম্বরটি ব্যবহার করেন আব্দুল আজিজ নামে একজন। ফলে আব্দুল আজিজের ডাক পড়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায়।

Advertisement

নম্বর আব্দুল আজিজের হলেও ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সহজ লিমিটেডের অ্যাপসে সেটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ইসরাব উদ্দিন জোবাঈর নামে। বিষয়টি জানতে চাইলে পুলিশের কাছে ইসরাব উদ্দিন জোবাঈর নামে কাউকে চেনেন না বলে জানান আব্দুল আজিজ। এমনকি কখনো ট্রেনে চড়েননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, আব্দুল আজিজ পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায়। নানার বাড়ি বাদে চট্টগ্রামের বাইরে তেমন কোনো আত্মীয়স্বজন নেই তার। নানার বাড়িতেও যান বাসে চড়ে। কখনো চড়েননি ট্রেনে। ট্রেনে না চড়লেও প্রযুক্তির দেওয়া খবরে চোখ কপালে উঠেছে আব্দুল আজিজেরও।

তবে শুধু আব্দুল আজিজ নয়, তদন্তে এমন অন্তত অর্ধশত মোবাইল নম্বরের তথ্য পেয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। যেসব নম্বর ব্যবহারকারীদের কেউই জানেন না তাদের নম্বরের বিপরীতে ট্রেনের টিকিট কাটা কিংবা রেজিস্ট্রেশনের তথ্য।

তাদের কেউ কেউ কখনো ট্রেনে না চড়লেও ভিন্ন নাম ব্যবহার করে একেকজনের নম্বর দিয়ে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১৮৪ বার পর্যন্ত কাটা হয়েছে ট্রেনের টিকিট।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, আমার বাড়ি ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায়। নানার বাড়ি ময়মনসিংহ। সেখানে বাসে চড়ে গিয়েছি কয়েকবার। কখনো ট্রেনে যাওয়া হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন আগে পুলিশ জানায়- আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ১৮৪ বার কাটা হয়েছে ট্রেনের টিকিট। অথচ এসবের কিছুই আমি জানি না। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি।

আরেক ভুক্তভোগী রমজান আলী। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় বাড়ি রমজান আলীর পানের দোকান রয়েছে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায়। তার নম্বরের বিপরীতে ১৪২ বার কাটা হয়েছে ট্রেনের টিকিট।

নম্বরটি রেজিস্ট্রেশন করা হয় সুমিত্র ঘোষ চৌধুরী। আব্দুল আজিজের মতো রমজান আলীরও দাবি- এ বিষয়ে জানেন না কিছুই।

এদিকে, টিকিট নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতির বিষয়টি উঠে আসার পর জালিয়াতি রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে রেলওয়েকে তিন দফা সুপারিশ দেওয়া হয়। সেই সুপারিশ অনুসারে এবারের ঈদযাত্রায় টিকিট কাটার ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) চালু করে রেলওয়ে।

রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধ করতে আমরা কিছু মতামত দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ওটিপির বিষয়টিও রয়েছে। ঈদযাত্রায় কালোবাজারিসহ সার্বিক পরিস্থিতি সুশৃঙ্খল রাখতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!