পাহাড়ে বসবাসকারী শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কষ্ট করে। কিন্তু সেখানকার ঘন জঙ্গল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথকে অনিরাপদ করে তোলে। এছাড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ের খাড়া পথগুলোও বিপজ্জনক। তবু এই ঝুঁকি মোকাবিলা করেই বাওম উপজাতিরা তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করতে চায়।
এ লক্ষ্যে সম্প্রদায়টি ছাত্রাবাস তৈরি করতে চেয়েছিল, যেন তাদের সন্তানরা স্থানীয় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে পারে এবং শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে। এর অংশ হিসেবে ২০১২ সালে একটি হোস্টেল স্থাপনে সহায়তা করে গ্লোবাল মিশন অংশীদাররা। বর্তমানে রোয়াংছড়ির সেই ছাত্রাবাসে ৩৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
.png)
এই হোস্টেল একটি নিরাপদ জায়গা। বিশেষ করে নারীদের জন্য, যাদের বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অন্ধকারে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়।
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ এখন এটিকে আরো টেকসই করতে সহায়তার উদ্যোগ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, কৃষিকাজ এবং পশুপালন। ছোট এসব উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থীদের বাসস্থান, খাদ্য, পোশাক এবং শিক্ষার জন্য ভর্তুকি প্রদান করতে সহায়তা করে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগ দুইটি তিন চাকার টুক-টুক। এগুলো রোয়াংছড়ি হোস্টেল এবং কাছাকাছি অন্য একটি হোস্টেলের জন্য কেনা হয়েছিল, যার সুবিধা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া চিলড্রেন হোম আবাসিক স্কুলের চুয়াঞ্চু হোপে ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের যাতায়াতে ব্যবহার হচ্ছে এই টুক-টুক।
টুক-টুকের মাধ্যমে এলাকায় একটি ছোট ট্যাক্সি ব্যবসাও করছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। তারা দুইজন চালক রেখেছেন, যাদের বেতন দিতে হয়। তবে এর আয় থেকে হোস্টেলগুলো তাদের কাঠামাগত খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা পায়।
প্রকল্প পরিচালক ভানা বাওম জানিয়েছেন, টুক-টুককে তারা গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাতেও কাজে লাগাতে পারে। হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে টুক-টুকস কাজে আসে। টুক-টুক ছাড়া, স্বাস্থ্যসেবার এই সেবা সম্ভব ছিল না।
যারা এটি সংগ্রহ করতে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রকল্প পরিচালক ভানা বাওম আরো বলেন, এর মাধ্যমে কিছু দরিদ্র পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে। বান্দরবানের পাহাড়ি পথ দিয়ে সমস্যাপূর্ণ পদচারণা তাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নয়।