ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত ‘রূপের রাণী’ রাঙ্গামাটি

নুরুল আমিন, রাঙ্গামাটি 
প্রকাশিত: ১৪:০১, ৯ এপ্রিল ২০২৪
ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত ‘রূপের রাণী’ রাঙ্গামাটি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদের ছুটিতে পাহাড় ঘেরা শান্তজলের হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটক বরণে প্রস্তুত রূপের রাণী খ্যাত রাঙ্গামাটি। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং মনের প্রশান্তির খোঁজে রাঙ্গামাটির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সী প্রকৃতিপ্রেমীরা। এরই মধ্যে রাঙ্গামাটির বেশ কয়েকটি হোটেল মোটেল অগ্রিম বুকিং হয়েছে। শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলের ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকরা।

জানা গেছে, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ঈদের ছুটি এবং পহেলা বৈশাখসহ টানা ছয়দিনের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানের ভ্রমণপিপাসুরা যান্ত্রিক শহরের একটু ক্লান্তি দূর করতে ছুটে আসবেন পাহাড়ে। এদিকে, এই লম্বা ছুটিকে কাজে লাগাতে মেঘের বাড়ি খ্যাত সাজেকেও বুকিং হয়েছে বেশিরভাগ রিসোর্ট।

রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানগুলো মধ্যে রয়েছে- পাহাড় ঘেরা শান্তজলের হ্রদে ঝুলন্ত সেতু, ডিসি বাংলো পার্ক, জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্ক, আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক, রাজবন বিহার, কাপ্তাইয়ে থাইল্যান্ডের আদলে নির্মিত নিসর্গ পড হাউস, আরন্যক পিকনিক স্পট, শুভলং ঝর্ণা, পেদাটিংটিং, টুকটুক ইকোভিলেজ, বেড়ান্যে লেক, বড়গাং, মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ এবং মেঘের রাজ্য খ্যাত সজেকসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। নবরূপে সাজানো হয়েছে রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল ও কটেজগুলো।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশএদিকে রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য এই অঞ্চলের সহজ-সরল পাহাড়ি-বাঙালি মানুষগুলোর আয় রোজগারও। পর্যটকদের আনাগোনায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আবাসিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পের কারুকাজ, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের তৈরি তাঁতের কাপড়সহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাগুলোর বেচা-কেনা জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সাজেকের কুঁড়েঘর রিসোর্টের ম্যানেজার জোথেন ত্রিপুরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাজেকে আগামী ১৩-১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাজেকের বেশির ভাগ কটেজ ও রিসোর্ট বুকিং হয়ে গেছে। এবারের ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত মেঘের রাজ্য সাজেক। 

তিনি আরো জানান, পুরো সাজেকে আছে ১১৬টি রিসোর্ট, সবগুলোই কম বেশি বুকিং হয়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের অবস্থিত হোটেল হিল অ্যাম্বেসেডর ম্যানেজা মো. মামুন জানান, ঈদের ছুটি যোগ হওয়ায় তাদের হোটেলে এখন পর্যন্ত ৮০ ভাগ রুম বুকিং রয়েছে। আশা করছেন, এবার ঈদে তাদের ব্যবসা জমে উঠবে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশরাঙ্গামাটি পর্যটন এলাকার টেক্সটাইল কর্মী তৃনা চাকমা জানান, প্রতি বছর ঈদে তাদের বেচাকেনা ভালো হয়। আশা করি এবারও প্রচুর ট্যুরিস্টের সমাগম ঘটবে।

রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রমজান আলী জানান, ট্যুরিস্ট বোটগুলোকে সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় রাঙ্গামাটিতে ভালো পর্যটকের আগমন ঘটবে।

রাঙ্গামাটি শহরের নিউ কোর্ট বিল্ডিং এলাকার আবাসিক হোটেল কসমস ইন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে এম সালাউদ্দিন জানান, হোটেলে প্রায় ৬০ ভাগ রুম বুকিং রয়েছে। ঈদের পরদিন থেকে পর্যটক আসা শুরু হবে। পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশরাঙ্গামাটি শহরের পর্যটকদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান পুলিশ পলওয়েল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ১২-১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের কটেজের সবকয়টি রুম বুকিং হয়ে গেছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, তাদের হোটেলে প্রায় ৮০ ভাগ রুম বুকিং রয়েছে। এবারের ঈদের ছুটিতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি  আরো বলেন, প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে রাঙ্গামাটি পর্যটনে ৫-৬ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। ঈদকে সামনে রেখে মোটেলকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং পর্যটকদের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুকেও নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!