চালকরা বলছেন, রাস্তার সংস্কার কাজ চলায় অন্য রাস্তা দিয়ে বেশি পথ ঘুরে যেতে হয় বিধায় যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজার স্ট্যান্ড থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৬০ টাকা হলেও ২০ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে, ঝিটকা থেকে হেমায়েতপুরের ভাড়া ১৭০ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
.png)
সায়েম ইসলাম জানান, আমি সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন ব্যবসার জন্য হরিরামপুর থেকে মানিকগঞ্জ যাই। ঈদের আগে থেকেই তারা মানিকগঞ্জের ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছেন। কিন্তু ঈদের আজ ১০ দিন চললেও সেই ৮০ টাকাই নেয়া হচ্ছে। মূলত অন্য কোনো ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় তারা আমাদের জিম্মি করেই এই ভাড়া আদায় করছেন।
রোকসানা হোসাইন নামের এক যাত্রী বলেন, ঝিটকা স্ট্যান্ড থেকে হেমায়েতপুরের নিয়মিত ভাড়া ১৭০ টাকা। আর সেই ভাড়া ৩০ টাকা বাড়িয়ে চালকরা নিচ্ছেন ২০০ টাকা। এই পথে অন্য কোনো সার্ভিস না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েই সিএনজিতে চলাচল করতে বাধ্য হই। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের বাঁচানো।
সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, মানিকগঞ্জের বেউথা সড়কের নির্মাণকাজ চলায় যানবাহন চলাচল করা অনেক কষ্টের। আর সেই সঙ্গে নির্মাণাধীন সড়ক দিয়ে গাড়ি চালালে টায়ারের অনেক ক্ষতি হয়। অপরদিকে, গিলন্ড হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে বাসস্ট্যান্ড যেতে জ্বালানি খরচ বেশি লাগে। এসব সমস্যার কারণে আমরা বাধ্য হয়েই যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে ঝিটকা সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ছোবাহান বলেন, আমি সকালে স্ট্যান্ডে ছিলাম না। তাই সকালে কত ভাড়া নিয়েছে তা বলতে পারবো না। আমি স্ট্যান্ডে যাওয়ার পর দেখলাম মানিকগঞ্জের ভাড়া ৬০ টাকা ও হেমায়েতপুরের ভাড়া ১৭০ টাকাই নেয়া হচ্ছে।
হরিরামপুর থানার ওসি শাহ নুর এ আলম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
ঝিটকা থেকে গাবতলী রুটে ভিলেজ লাইনের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় মানিকগঞ্জ কিংবা ঢাকার যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এজন্য বিভিন্ন সময়ে সুযোগ পেলেই চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। ঝিটকা-মানিকগঞ্জ-গাবতলী রুটে বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানান সাধারণ যাত্রীরা।